২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার
১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেতন–পদোন্নতির দাবিতে কর্মবিরতিতে প্রাথমিক শিক্ষকরা

শেয়ার করুন

বেতন বৃদ্ধি ও পদোন্নতির দাবিতে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী রোববার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়, ফলে সারা দেশের ৬৫ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

এর আগে শনিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামসুদ্দিন মাসুদ এ কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।

শনিবার সকাল থেকে শিক্ষকরা শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন এবং দশম গ্রেডে বেতন ও পদোন্নতির দাবিতে ‘লাগাতার অবস্থান’ চালিয়ে যান। বিকেলে ‘কলম বিসর্জন কর্মসূচি’ পালনের জন্য তারা শাহবাগের দিকে পদযাত্রা করলে পুলিশের বাধার মুখে সংঘর্ষ হয়। শিক্ষক নেতাদের দাবি, এতে শতাধিক শিক্ষক আহত হন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, এবং কয়েকজন শিক্ষক নেতাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা করছিলেন, কিন্তু পুলিশ বিনা উসকানিতে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় বহু শিক্ষক অচেতন হয়ে পড়েন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আশ্রয় নেন।

প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক শামসুদ্দিন মাসুদ বলেন, “বিনা উসকানিতে আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। বহুবার আলোচনার পরও সমাধান আসেনি। এবার প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।”

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন–লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি বলেন, “আলোচনা নয়, এবার দাবির বাস্তবায়ন চাই। প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে চারটি সংগঠন এ আন্দোলনে যুক্ত রয়েছে। তাদের তিনটি মূল দাবি হলো—
১️. দশম গ্রেডে বেতন–ভাতা প্রদান,
২️. ১০ ও ১৬ বছর চাকরি পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডের জটিলতার স্থায়ী সমাধান,
৩️. সহকারী শিক্ষকদের শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা।

শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সরকার তাদের দাবি না মানলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন