দেশের শিক্ষা প্রশাসনে গত ১১ ডিসেম্বর এক স্মরণীয় ‘বদলির চাঁদরাত’ পার হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে এক রাতেই শিক্ষা ক্যাডারের ৪৭৫ জন কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে, যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এই বিশাল রদবদলকে কেন্দ্র করে উঠেছে বিপুল অংকের আর্থিক লেনদেন ও ‘বদলি বাণিজ্যের’ গুরুতর অভিযোগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই প্রক্রিয়ার নেপথ্যে শিক্ষা সচিবের দপ্তরের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করেছে। বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), শিক্ষা বোর্ড, এনসিটিবি এবং বিভিন্ন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদে পদায়নের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। একই দিনে পদোন্নতি পেয়েছেন আরও ২,৭০৬ জন কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, এই তালিকায় বিগত সরকারের সমর্থক এবং দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অনেক কর্মকর্তাও স্থান পেয়েছেন। বিশেষ করে ‘ঘুষের রাজ্য’ হিসেবে পরিচিত পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বহাল রাখা বা সুবিধাজনক স্থানে বদলি করা নিয়ে শিক্ষা ক্যাডারে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একে ‘রুটিন কাজ’ দাবি করলেও সাধারণ কর্মকর্তাদের মধ্যে এটি ‘সুসংগঠিত সিন্ডিকেট বাণিজ্য’ হিসেবেই আলোচিত হচ্ছে।
সিএনআই/২৫