২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার
১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘অনৈক্য’ ঘোচাতে উদ্যোগী সরকার — উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা আজ

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান অনৈক্য ও মতবিরোধ নিরসনে আজ সোমবার একটি বিশেষ সভা আহ্বান করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সকাল ১১টায় তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে তার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই জাতীয় সনদ, গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ‘বিপরীতমুখী অবস্থান’ তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। এতে গণভোটের তারিখ নির্ধারণ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) সংশোধনের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সাধারণত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নির্দিষ্ট এজেন্ডা থাকে, কিন্তু আজকের সভায় কোনো নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি নেই। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা দলগুলোর মধ্যে ঐক্যমতের পথ বের করতে চাচ্ছেন। এরই মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে, যেখানে সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টাও মধ্যস্থতা করেছেন।

সূত্র জানায়, সরকার চায় ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ করতে। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য জরুরি হয়ে উঠেছে।

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা হবে। গণভোটের সময় নির্ধারণ করবেন প্রধান উপদেষ্টা নিজেই।”

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট আয়োজনের সুপারিশ জমা দিয়েছে। তবে এই গণভোটের সময় নিয়ে দ্বিমত রয়েছে — বিএনপি চায় নির্বাচনের দিনেই গণভোট হোক, আর জামায়াত চায় নির্বাচনের আগে।

এদিকে বিএনপি অভিযোগ করছে, জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে দলগুলো একমত হয়েছিল, বাস্তবায়নের খসড়ায় তার বাইরে কিছু যোগ করা হয়েছে, যা তারা ‘প্রতারণা’ বলছে।

আজকের বৈঠকে আরপিও সংশোধনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হতে পারে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, জোট করলেও প্রার্থীদের নিজ দলের প্রতীকেই ভোট করতে হবে। এই পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিএনপি ও সমমনা কয়েকটি দল নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছে। বিএনপির দাবি, এটি ছোট দলগুলোর জন্য “রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এমন সিদ্ধান্ত জোটভিত্তিক নির্বাচনের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করবে। এটি অগণতান্ত্রিক এবং জোট রাজনীতির বিরুদ্ধে।”

উল্লেখ্য, আজ দুপুর ১২টায় অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের করবী হলে। এখানে বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ঘোষণা দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

সর্বোপরি, রাজনৈতিক বিভাজন নিরসন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, এবং নির্বাচনকালীন সমঝোতা—এই তিন ইস্যু নিয়েই আজকের বৈঠককে জাতীয় রাজনীতির মোড় ঘোরানোর সম্ভাব্য মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন