
ইসলামের ইতিহাসে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। শত্রুরা তাঁকে কষ্ট দিক, রক্তাক্ত করুক বা জাদু করুক, তিনি কখনো প্রতিশোধের পথ নেননি। এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো জুরাইক গোত্রের জাদুকর লাবিদ ইবনে আসামের ঘটনা।
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, লাবিদ ইবনে আসাম নবীজি (স.)-এর ওপর জাদু করেছিল। এর ফলে মাঝে মাঝে নবীজি (স.) ভাবতেন যে, তিনি কোনো কাজ করেছেন, অথচ বাস্তবে করেননি (সহিহ বুখারি: ৫৭৬৩)।
একদিন নবীজি (স.) হজরত আয়েশার পাশে ছিলেন এবং বারবার দোয়া করছিলেন। এরপর তিনি বলেন, “হে আয়েশা! আল্লাহ আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন যা জানতে চেয়েছিলাম।”
রাসুলুল্লাহ (স.) স্বপ্নে দেখেন, দুজন ফেরেশতা তাঁর কাছে এসেছেন। একজন মাথার কাছে বসে প্রশ্ন করল, ‘এই ব্যক্তির কী সমস্যা?’ অপরজন বলল, ‘এ ব্যক্তির ওপর জাদু করা হয়েছে, লাবিদ ইবনে আসাম জাদু করেছে।’ তারা আরও জানালেন, জাদুর বস্তু চিরুনির চুল ও খেজুরগাছের ‘জুব’-এর মধ্যে রাখা হয়েছিল।
নবীজি (স.) কয়েকজন সাহাবিকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান এবং জাদুর বস্তু উদ্ধার করেন। ফিরে এসে তিনি হজরত আয়েশাকে বলেন, “কূপের পানি মেহেদির পানির মতো লাল ছিল, আর খেজুরগাছের মাথাগুলো শয়তানের মাথার মতো দেখাচ্ছিল।”
হজরত আয়েশা জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি বিষয়টি প্রকাশ করবেন না?”
নবীজি (স.) উত্তর দেন, “আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দান করেছেন। আমি মানুষকে এমন বিষয়ে প্ররোচিত করব না, যাতে অকল্যাণ রয়েছে।”
এই ঘটনায় নবীজির চরিত্রের দুটি দিক স্পষ্ট হয়:
১. আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা: কঠিন পরিস্থিতিতেও নবীজি (স.) আল্লাহর ওপর ভরসা রেখেছেন।
২. ক্ষমা ও মানবকল্যাণ: শত্রুর প্রতি প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা প্রদর্শন করে তিনি শিক্ষা দিয়েছেন যে, ক্ষমা প্রকৃত সাহসিকতার প্রতীক।
রাসুলুল্লাহ (স.) আমাদের শেখান, ক্ষমা কেবল ব্যক্তিগত গুণ নয়, এটি সামাজিক দায়িত্বও। ক্ষমার মাধ্যমে সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
(সূত্র: সহিহ বুখারি: ৫৭৬৩)
সিএনআই/২৫