
রাজধানীর সড়কগুলো এখন যেন জল-কাদা আর গর্তের নগরী। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা, সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যাচ্ছে পুরো সড়ক। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকে কোটি মানুষ। এমনই ভয়াবহ অবস্থা মোহাম্মদপুর-বছিলা সড়কসহ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বহু এলাকার।
সরেজমিন দেখা গেছে, মোহাম্মদপুর তিন রাস্তার মোড় থেকে বছিলা পর্যন্ত সড়কের বেশ কিছু অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এ সড়ক এখন চলাচলের অনুপযোগী। স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিকবার বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেও স্থায়ী সমাধান পাননি।
স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিন এই সড়কে যাতায়াত করতে হয়। আমার বাচ্চারা স্কুলে যেতে মাস্ক পরে, কারণ কাদা ও ধুলাবালির কারণে একদমই স্বস্তি নেই। বর্ষায় হাঁটা অসম্ভব হয়ে পড়ে।’
শুধু মোহাম্মদপুর নয়—চকবাজার, মানিকনগর, হাতিরঝিল, খিলগাঁও, মুগদা, রামপুরা, গেন্ডারিয়া, উত্তরাসহ প্রায় সব এলাকাতেই একই চিত্র। কোনো সড়ক খোঁড়াখুঁড়িতে পড়ে আছে, আবার কোথাও বড় বড় গর্তে পানি জমে তৈরি হয়েছে দুর্ঘটনার ফাঁদ। মুগদা মেডিকেল কলেজের সামনে খানাখন্দে ভরা সড়ক রোগী ও স্বজনদের জন্য বিশেষ দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতায় ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটিতে ৩৪০ কিলোমিটার সড়ক তাৎক্ষণিক সংস্কারের প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, “প্রতি বছর বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, কিন্তু সড়কগুলো টেকে না। রাজনৈতিক প্রভাব ও নিম্নমানের কাজের কারণে বরাদ্দের সিংহভাগই অপচয় হচ্ছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য এই সংস্কৃতি বদলানো জরুরি।”
ডিএসসিসির প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, “বর্ষার কারণে সংস্কারকাজ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তবে এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কার করা হচ্ছে।”
সিএনআই/২৫