
দীর্ঘদিন ধরে চলমান শিক্ষক সংকট নিরসনে আগামী জুলাই মাস থেকেই বড় পরিসরে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে জালালাবাদ গ্যাস ভবন অডিটোরিয়ামে সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ আরও স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক করতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হবে। ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগের সুযোগ কমিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব চলবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতেই শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শুধু এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। সরকারি স্কুল-কলেজেও রয়েছে বিপুলসংখ্যক শূন্যপদ। দীর্ঘদিন শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও একজন বা দুজন শিক্ষক দিয়েই পুরো প্রতিষ্ঠান চালাতে হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষক সংকট এই তিন মাসে তৈরি হয়নি এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। জুলাই থেকে আমরা শিক্ষক নিয়োগ শুরু করব। শিক্ষক সংকট দূর করাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের দীর্ঘদিনের শূন্যপদের বিষয়ে তিনি বলেন, আদালতে মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বছরের পর বছর নিয়োগ ও পদোন্নতি আটকে ছিল। সরকার সেই জটিলতা নিরসনে কাজ করছে। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষায় দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও পদোন্নতি জটিলতা নিরসনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে।
এহছানুল হক মিলন বলেন, ২০১৭ সাল থেকে বিচারাধীন মামলার কারণে প্রায় ২৫ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে রয়েছে। আদালতের রায়ের আলোকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক পদের শূন্যতা রয়েছে এবং আগামী জুলাই থেকে নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন-সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসন করে নিয়মিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বেতন প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বিচারাধীন ৩০ হাজারের বেশি মামলাও পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি, আইসিটি ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত ফল করতে পারছে না। এ সংকট দূর করতে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে শুধু শিক্ষক নিয়োগ নয়, ডিজিটাল মনিটরিং, স্মার্ট ক্লাসরুম এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান করছেন কি না, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কেমন এসবও প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
শিক্ষা প্রশাসনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ডিজি অফিসে বসে দালালি করার দিন আর নেই। পাশাপাশি শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ ব্যবস্থাপনায় বিগত সরকারের সময়ে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালের পর থেকে অবসরে যাওয়া শিক্ষকরা কেউ কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পাননি। এখন ধরাও যাচ্ছে না। রাজনৈতিক কারণে কোনো কলেজ সরকারীকরণ হবে না, ঢালাওভাবে সরকারীকরণের কোনো সিদ্ধান্ত নেই।
অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ে শিক্ষক স্বল্পতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অযাচিত কোনো বিভাগ খোলা যাবে না, চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। এই শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে হবে, কেউ আমাদের আটকাতে পারবে না।