২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার
৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যমুনায় উঠছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শেয়ার করুন

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উঠবেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গুলশান অ্যাভেনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান গুলশানে নিজের বাসায় থাকবেন। সরকারি বাসভবন যমুনায় উঠছেন না।’

এর কারণ তুলে ধরে রুমন বলেন, ‘জনাব তারেক রহমান গুলশানের নিজের যে ছোট বাসাটি তাতে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার পর এই বাসায় উঠেছেন। সেই ভাবে বাসাটি সাজানো-গুছানো হয়েছে।’

১৭ বছরের নির্বাসন ভেঙে গেল বছরের ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে সপরিবারে ওঠেন তারেক রহমান, এরপর থেকে সেখানেই বাস করছেন। পাশেই ‘ফিরোজা’ নামের বাড়িটিতে থাকতেন তার মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

১৯৬ নম্বর বাড়িটি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পরে তার সহধর্মিণী খালেদা জিয়াকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভা।

গেল বছর এ বাড়ির দলিলপত্র বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে হস্তান্তর করেন গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু।

১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সংস্কার হলে সেখানেই উঠবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেভাবেই যমুনাকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রস্তুতও করে মন্ত্রণালয়।

এর মধ্যে নির্বাচনের পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রায় দেড় বছর বসবাসের পর যমুনা ছাড়েন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। ৫ আগস্টে সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হয়ে মুহাম্মদ ইউনুস হেয়ার রোডে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যুমনাকে সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

কিন্তু শেষমেষে যমুনায় না ওঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ঈদের দিন সকাল ১০টায় যুমনা থেকেই ঈদের দিন কূটনীতিক, শিক্ষাবিদসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।

তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এই যুমনাতে হবে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া কূটনীতিক ও আলেম-ওলামাদের সম্মানে দুইটি ইফতার অনুষ্ঠান এই ভবনের হয়েছে। ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানও এই যুমনা হবে।’

১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমান এবং ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান তাদের দায়িত্বের দিনগুলো রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যুমনাতেই ছিলেন।

২০০৭ সালে এক-এগারোর পট পরিবর্তনের পর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমেদও এ ভবনে থেকেছেন।

শেয়ার করুন