১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার
২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বসন্ত বাতাসে আজ ভালোবাসার দিন

শেয়ার করুন

১৪ ফেব্রুয়ারি। ক্যালেন্ডারের একটি সাধারণ দিন হলেও অনুভূতির দিক থেকে দিনটি অসাধারণ। কেননা বিশ্বজুড়ে দিনটি ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ হিসেবে পরিচিত। তবে এ বছর সেই দিনটি বাঙালির জীবনে এসেছে এক অদ্ভুত দোলাচল নিয়ে। একদিকে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী সুর, অন্যদিকে হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা ভালোবাসার উচ্ছ্বাস। আনন্দের এই যুগলবন্দিতে রয়েছে হালকা বিষণ্নতার ছায়া, আবার একই সঙ্গে প্রবল আশাবাদও।

শীতের কুয়াশা সরিয়ে ফাল্গুন আসে রঙিন উষ্ণতায়। বাতাসে কিশোরী কাঁপন, কৃষ্ণচূড়ার ডালে অদৃশ্য আগুনের প্রস্তুতি। প্রকৃতি যেন নিঃশব্দে শেখায়, শূন্যতার মধ্যেও কীভাবে জীবনের রঙ খুঁজে নিতে হয়। বসন্ত মানেই প্রেম, আবার বসন্ত মানেই স্মৃতি আর বিরহের মিশেল। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় যখন বাসন্তী শাড়ি আর হলুদ পাঞ্জাবির রঙ ছড়িয়ে পড়ে, তখন ভিড়ের মাঝেও লুকিয়ে থাকে না-বলা অনুভূতির গল্প। কারও কাছে দিনটি প্রাপ্তির আনন্দ, কারও কাছে অপূর্ণতার দীর্ঘশ্বাস। তবু মানুষের হৃদয় শেষ পর্যন্ত ভালোবাসাকেই বেছে নেয়। কারণ বিচ্ছেদ আছে বলেই মিলনের মূল্য এত গভীর।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, ‘আমার মুক্তি সর্বজনে, আমার মুক্তি আলোয় আলোয়।’ ঠিক তেমনি, আমাদের ভালোবাসা কেবল চার দেয়ালের মধ্যে বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থাকুক। এই বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসের যোগসূত্রে আমরা যেন একে অপরের প্রতি আরও সহনশীল হই। নতুনের আগমনে পুরনো কলহ, রাজনৈতিক তিক্ততা আর ব্যক্তিগত না-পাওয়াগুলো বসন্তের বাতাসের মতো উড়িয়ে দিই।

তবে ভালোবাসা শুধু একক্ষেত্রেই প্রকাশ করতে হবে, এমন নয়। ভালোবাসার অনুভূতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে প্রকাশ করা যেতে পারে, হতে পারে তা প্রিয় বন্ধুদের প্রতি, একটি কুকুর কিংবা বিড়ালের জন্য কিংবা হতে পারে তা সৃষ্টির সকল জীবের প্রতি দয়া, মায়া ও মমতা দেখানো-ও ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ।

আজকের এ বিশেষ দিনে ভালবাসা পাক নতুন পূর্ণতা, এ ভালোবাসায় হোক স্রষ্টা ও তার সব সৃষ্টির প্রতি। বেঁচে থাকুক ভালোবাসার ছোট ছোট অনুভূতিগুলো।

শেয়ার করুন