১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার
২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাঁশখালী-তে দাঁড়িপাল্লার দাপট, এমপি হচ্ছেন জামায়াতের জহিরুল ইসলাম

শেয়ার করুন

তৌহিদ-উল বারী, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের বাঁশখালী-তে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উপজেলার ১১২টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ চলে।

ভোট শেষে রাতে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জামশেদুল আলম।

প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে এগারো দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ৮৯ হাজার ৯৬০ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩৭ ভোট।

অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী (ফুটবল প্রতীক) পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৭১ ভোট।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাফেজ রুহুল্লাহ (হাতপাখা) পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৭৮ ভোট। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ-এর আব্দুল মালেক (চেয়ার) পেয়েছেন ৮১১ ভোট। গণঅধিকার পরিষদ-এর মো. আরিফুল হক (ট্রাক) পেয়েছেন ২৪১ ভোট এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-এর এহছানুল হক (হারিকেন) পেয়েছেন ১০৪ ভোট।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৩ হাজার ৮১৯, নারী ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৩৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৪ জন। মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৯৫৮টি; বৈধ ভোট ২ লাখ ৩২ হাজার ৪০২ এবং বাতিল ৪ হাজার ৫৫৬টি। ভোটের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

সহকারী রিটার্নিং অফিসার জানান, পুরো প্রক্রিয়া সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে; কোথাও বড় ধরনের অনিয়ম বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাঠে দায়িত্ব পালন করে ৬ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, পুলিশ, আনসার ও স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ আট শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।

স্থানীয় ভোটাররা জানান, দীর্ঘদিন পর উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরে তারা সন্তুষ্ট এবং সুষ্ঠু আয়োজনের জন্য প্রশাসনের ভূমিকায় প্রশংসা জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন