২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার
১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুরা বাকারার ৪টি অমূল্য দোয়া: মুমিনের পাথেয়

শেয়ার করুন

পবিত্র কোরআনের দীর্ঘতম সুরা ‘বাকারা’ যেমন শরিয়তের বিধানের সংকলন, তেমনি এটি আল্লাহর কাছে চাওয়ার শ্রেষ্ঠ পাঠশালা। এই সুরায় এমন কিছু দোয়া নিহিত রয়েছে যা দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে। নিচে সুরা বাকারার ৪টি বিশেষ দোয়া তুলে ধরা হলো:

১. আল্লাহর অনুগত হওয়ার দোয়া

رَبَّنَا تَقَبَّلۡ مِنَّا ؕ اِنَّکَ اَنۡتَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ رَبَّنَا وَ اجۡعَلۡنَا مُسۡلِمَیۡنِ لَکَ وَ مِنۡ ذُرِّیَّتِنَاۤ اُمَّۃً مُّسۡلِمَۃً لَّکَ ۪ وَ اَرِنَا مَنَاسِکَنَا وَ تُبۡ عَلَیۡنَا ۚ اِنَّکَ اَنۡتَ التَّوَّابُ الرَّحِیۡمُ
এই দোয়াটি হজরত ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.) কাবা ঘর নির্মাণের সময় করেছিলেন। এটি ইবাদত কবুল ও বংশধরদের হেদায়েতের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।

উচ্চারণ: রাব্বানা তাকাব্বাল মিন্না, ইন্নাকা আন্তাস সামিউল আলিম। রাব্বানা ওয়াজ‘আলনা মুসলিমাইনি লাকা, ওয়া মিন জুররিইয়াতিনা উম্মাতাম মুসলিমাতাল লাক; ওয়ারিনা মানাসিকানা, ওয়া তুব আলাইনা; ইন্নাকা আন্তাত্তাওয়াবুর রাহিম।
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী। আমাদের আপনার অনুগত বানান এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকে আপনার অনুগত একটি জাতি গড়ে তুলুন। আমাদের তাওবা কবুল করুন।

২. দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনার দোয়া

رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنۡیَا حَسَنَۃً وَّ فِی الۡاٰخِرَۃِ حَسَنَۃً وَّ قِنَا عَذَابَ النَّارِ
এটি কোরআনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দোয়া যা রাসুলুল্লাহ (সা.) সবচেয়ে বেশি পাঠ করতেন।

 উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া ক্বিনা আজাবান্নার। অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। (আয়াত: ২০১)

৩. ধৈর্য ও দৃঢ়তা লাভের দোয়া

رَبَّنَاۤ اَفۡرِغۡ عَلَیۡنَا صَبۡرًا وَّ ثَبِّتۡ اَقۡدَامَنَا وَ انۡصُرۡنَا عَلَی الۡقَوۡمِ الۡکٰفِرِیۡنَ

বিপদ-আপদ বা শত্রুর মোকাবিলায় অবিচল থাকতে এই দোয়াটি অত্যন্ত শক্তিশালী।

উচ্চারণ: রাব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরান, ওয়া ছাব্বিত আকদামানা, ওয়া নসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরিন। অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন, আমাদের পা দৃঢ় রাখুন এবং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন। (আয়াত: ২৫০)

৪. ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনার দোয়া

رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَاۤ اِنۡ نَّسِیۡنَاۤ اَوۡ اَخۡطَاۡنَا ۚ رَبَّنَا وَ لَا تَحۡمِلۡ عَلَیۡنَاۤ اِصۡرًا کَمَا حَمَلۡتَهٗ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِنَا ۚ رَبَّنَا وَ لَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَۃَ لَنَا بِهٖ ۚ وَ اعۡفُ عَنَّا ٝ وَ اغۡفِرۡ لَنَا ٝ وَ ارۡحَمۡنَا ٝ اَنۡتَ مَوۡلٰىنَا فَانۡصُرۡنَا عَلَی الۡقَوۡمِ الۡکٰفِرِیۡنَ

এটি সুরা বাকারার সর্বশেষ আয়াত। হাদিসে এই আয়াতের বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

উচ্চারণ: রাব্বানা লা তুআ-খিযনা ইন নাছীনা আও আখতা’না রাব্বানা ওয়ালা তাহমিল ‘আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহূ আলাল্লাযীনা মিন কাবলিনা রাব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা-লা তা-কাতা লানা বিহী ওয়া‘ফু আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা আনতা মাওলানা ফানসুরনা‘আলাল কাওমিল কাফিরীন।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুল করি তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না। আমাদের ওপর বোঝা চাপিয়ে দেবেন না। যা বহনের সামর্থ্য আমাদের নেই, তা আমাদের ওপর চাপাবেন না। আমাদের মার্জনা করুন, ক্ষমা করুন ও দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক। (আয়াত: ২৮৬)

 দোয়া ইবাদতের মূল। নিয়মিত এই দোয়াগুলো পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন তার ঈমানি জীবনকে আরও সুদৃঢ় এবং আল্লাহমুখী করতে পারে। বিশেষ করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর এই দোয়াগুলো পাঠ করা অত্যন্ত বরকতময়।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন