২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যথাযোগ্য মর্যাদায় বেরোবিতে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

শেয়ার করুন

 

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০২৫ পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর নগরীর দমদমা বধ্যভূমিতে শোক র‌্যালি, পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শওকাত আলীর নেতৃত্বে দমদমা বধ্যভূমিতে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ ও দপ্তরের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার তৃতীয় তলায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শওকাত আলী। তিনি শহিদ বুদ্ধিজীবীদের সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করে বলেন, বুদ্ধিজীবী হিসেবে শুধু শিক্ষক সমাজই নয় বরং দেশের বিভিন্ন পেশার মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। তিনি জুলাই বিপ্লবে শহিদ আবু সাঈদসহ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে আত্মোৎসর্গকারী তরুণ শিক্ষার্থীদের অবদানের কথাও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

উপাচার্য আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। রংপুর অঞ্চলও এ নির্মমতার বাইরে ছিল না। এ অঞ্চলের বহু বুদ্ধিজীবী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কেউ শহিদ হয়েছেন এবং অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় ইতিহাস ও গবেষণালব্ধ তথ্য তাঁদের আত্মত্যাগের স্পষ্ট সাক্ষ্য বহন করে। তিনি শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ ধারণ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০২৫ পালন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোঃ ইলিয়াছ প্রামানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ মিজানুর রহমান, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ এমদাদুল হক এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ নজরুল ইসলাম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ খন্দকার গোলাম মোস্তফা এবং পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী খোকন ইসলাম।

আলোচনা সভা শেষে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন বেরোবি কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব ড. রকিব উদ্দিন আহাম্মেদ। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালনের মাধ্যমে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে তাঁদের আত্মত্যাগ ও আদর্শ তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রাকিবুল হাসান মুন্না
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর
সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন