২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাইমার ভুয়া ভিডিও ছড়াচ্ছে হাজারো পেজ, গুজবে নিশানায় বিএনপি

শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সামাজিক মাধ্যম ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টে ভরে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভিডিও, নকল ফটোকার্ড এবং মনগড়া উদ্ধৃতির মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব গুজবের লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারাও।

সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুকে জড়িয়ে অনলাইনে একাধিক ভুয়া ভিডিও ও ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরাও যাচাই ছাড়া এসব পোস্ট শেয়ার করায় বিভ্রান্তি আরও বাড়ছে।

“হ্যাং করে তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান লাইভে” — এমন ক্যাপশনযুক্ত একটি ভিডিও প্রায় ১৫ হাজার ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার হয়েছে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়— “তারেক রহমান খুব শিগগির দেশে ফিরবেন।”
কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, ভিডিওটি সম্পূর্ণ এআই দিয়ে তৈরি। জাইমা রহমান যেসব ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন—সেগুলোর বক্তব্যের সঙ্গে এই ভিডিওর কোনো মিল নেই।

জাইমার ভিডিওর পর বিএনপি মহাসচিবকে ঘিরে দুটি গুজব ছড়ায়। এর মধ্যে একটিতে দাবি করা হয়—আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না গেলে বিএনপিও যাবে না। আবার নকল ফটোকার্ডে মির্জা ফখরুলের নামে বিকৃত বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে, যার কোনোটাই আসল নয়।
বাংলাদেশ প্রতিদিন ও সমকাল–এর আদলে তৈরি এসব ফটোকার্ড সম্পূর্ণ ভুয়া বলে যাচাইয়ে প্রমাণিত হয়েছে।

বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর নামে ছড়ানো আরেকটি ফটোকার্ডে তাকে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। কিন্তু সেটিও ভুয়া—তিনি এমন কোনো মন্তব্য করেননি।

রাইজিংবিডি ও কুমিল্লা নিউজসহ একাধিক অনলাইন পোর্টালের ডিজাইন নকল করে বিভ্রান্তিকর ছবি ছড়ানো হচ্ছে।
টিকটকে সমকাল–এর নামে ছড়ানো ভুয়া কার্ডও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে এআই–এডিটেড বলে প্রমাণিত হয়।
ডাকসুর মেঝেতে পাঁচ দেশের পতাকা লাগানোর দাবি করা ভাইরাল ছবিটিও আসলে এআই সম্পাদিত।

বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক সাইফ আলী খান বলেন—
“আমরা এসব বিষয়ে সতর্ক আছি। রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ছড়াতে ভুয়া তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। সবাইকে অনুরোধ করব—যাচাই ছাড়া কিছু শেয়ার করবেন না।”

তিনি আরও বলেন, হাইকমান্ড আগেই নির্দেশ দিয়েছে—যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার করা যাবে না।

সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজী মুস্তাফিজ বলেন—
“এআই মানুষের কল্যাণে তৈরি হলেও এর অপব্যবহার বাড়ছে। রাজনৈতিক কর্মীদের উচিত যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য না ছড়ানো, কারণ তাদের কর্মকাণ্ড সমাজে বড় প্রভাব ফেলে।”
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম নেয়ার আহ্বান জানান।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন