হলিউড, বলিউড বা দক্ষিণী সিনেমা—শুটিং সেটে নায়িকারা প্রায়ই পরিচালক বা সহ-অভিনেতার প্রেমে পড়ার ঘটনা চোখে পড়ে। সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে দক্ষিণী সুন্দরী সামান্থা রুথ প্রভু ও ‘ফ্যামিলি ম্যান’ খ্যাত পরিচালক রাজ নিদিমোরুর বিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
দক্ষিণী পরিচালক অশোক তেজার মতে, সিনেমা নির্মাণের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় পরিচালক ও অভিনেত্রীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ মানসিক সংযোগ তৈরি হয়। শুটিং সেটে চরিত্রের গভীরতা, লুক ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে আলোচনা এই সংযোগকে ব্যক্তিগত আবেগে রূপান্তরিত করে। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর পারস্পরিক পছন্দ-অপছন্দ শেয়ার এবং শেষ পর্যন্ত জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়া—এভাবে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
শোবিজের বাইরেও বিজ্ঞান এই আচরণের ব্যাখ্যা দেয়। মার্কিন নৃবিজ্ঞানী হেলেন ফিশার মানব প্রেমকে তিনটি স্তরে ভাগ করেছেন—প্রথম স্তর কামপ্রবৃত্তি, যা টেস্টোস্টেরন ও ইস্ট্রোজেন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত; দ্বিতীয় স্তর তীব্র আকর্ষণ, যেখানে ডোপামিন, অ্যাড্রিনালিন ও নরএপিনেফ্রিন হরমোন নিঃসরণ হয়; তৃতীয় স্তর অক্সিটোসিন, যা গভীর মানসিক সংযোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্ম দেয়।
মাসের পর মাস শুটিং সেটে একসঙ্গে থাকা, সৃজনশীল আলোচনার মাধ্যমে একে অপরকে চেনা এবং আবেগের আদান-প্রদান—এসবই নায়িকাদের পরিচালকের দিকে আকৃষ্ট করে। সামান্থা ও রাজের বিয়ে এই মনস্তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার ফলাফল।
সিএনআই/২৫