২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সময়কে দায় দেওয়া হারাম: ইসলামের দৃষ্টিতে করণীয়

শেয়ার করুন

সময়কে ‘খারাপ’ বলা বা বিপদ-আপদকে সময়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া আমাদের সমাজে সাধারণ রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এটি আল্লাহর ফয়সালা ও প্রজ্ঞাকে অস্বীকার করার মতো গুরুতর ভুল। এতে ঈমান দুর্বল হয়, কৃতজ্ঞতা কমে যায় এবং মানুষের দায়িত্ববোধ নষ্ট হয়।

জাহেলি যুগের বিশ্বাস ও ইসলামের অবস্থান

ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবরা মনে করত—‘দাহর’ নামের সময়ই কষ্ট ও বিপদের কারণ। ইসলাম এ ধরনের ধারণা প্রত্যাখ্যান করে। সময় আল্লাহর সৃষ্টি এবং তাঁর ইচ্ছাতেই সবকিছু ঘটে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন— “আমাদের জন্য যা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা ছাড়া অন্য কিছু আমাদের ঘটবে না।” (তাওবা: ৫১)

সমস্যার কারণ কর্ম, সময় নয়

কুরআনে বলা হয়েছে— “তোমাদের ওপর যে মুসিবত আসে, তা তোমাদের কৃতকর্মের ফল; অনেক কিছু তো তিনি ক্ষমা করে দেন।” (শুরা: ৩০)
অর্থাৎ বিপদের জন্য সময় নয়, মানুষের কাজ এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তই দায়ী।

সময় আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন

রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে উল্লেখ করেছেন—আল্লাহ বলেন:
“আদমসন্তান সময়কে গালি দেয়, অথচ আমিই সময়। রাত–দিন আমি পরিবর্তন করি।” (বুখারি ৪৮২৬)
ইমাম নববি (রহ.) বলেন—সময়ের আলাদা কোনো ক্ষমতা নেই; এটি আল্লাহর পরিচালিত ব্যবস্থা। তাই সময়কে গালি দেওয়া মানে সৃষ্টিকর্তাকেই দোষ দেওয়া।

সময়কে দোষ দেওয়া হারাম

ইবনে হাজার (রহ.) উল্লেখ করেছেন, সময়কে গালি দেওয়া স্পষ্ট হারাম। কারণ সময় আল্লাহর সৃষ্টি, তাই তাকে দোষ দিলে তা সরাসরি আল্লাহর প্রতি অসম্মান।

তাকদিরে বিশ্বাস—ঈমানের মূল অংশ

রাসুল (সা.) বলেন— “তাকদিরের ভালো-মন্দে বিশ্বাস ঈমানের অংশ।” (মুসলিম)
সময়কে দোষ দিলে তাকদিরে অসন্তুষ্টি প্রকাশ পায়, যা ঈমানের পরিপন্থী।

আজকের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ

মানুষ প্রায়ই বলে—‘খারাপ সময়’, ‘অভিশপ্ত বছর’, ‘এই সময় খুব মন্দ।’ ইসলাম শেখায়—এসব না বলে বলতে হবে:
“এটা আল্লাহর পরীক্ষা”,
“আমরা তাঁর সিদ্ধান্তে রাজি”,
“আমাদের ভুলের জন্য আমরা তাওবা করছি।”

ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার শিক্ষা

কুরআন ও হাদিসে বারবার বলা হয়েছে—

  • বিপদে ধৈর্য

  • সুখে কৃতজ্ঞতা
    এই দুই গুণ মুমিনের জীবনকে ভারসাম্যপূর্ণ করে ও মানসিক শান্তি দেয়।


ইসলাম আমাদের শেখায় আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা, ধৈর্যধারণ, নিজের ভুল সংশোধন করা এবং সময়কে কল্যাণের কাজে ব্যবহার করা। এ পথেই গড়ে ওঠে সঠিক আকিদা ও দায়িত্বশীল সমাজ।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন