
রাজধানীর সিদ্দিকবাজার ও সায়েন্স ল্যাব এলাকায় ২০২৩ সালে দুটি ভবন ধসে পড়ার পর রাজউক বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘আরবান রেজিলিয়েন্স’ প্রকল্পের আওতায় ২২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করে। এর মধ্যে ৪২টি ভবন ভেঙে ফেলা এবং ১৮৭টি রেট্রোফিটিংয়ের মাধ্যমে সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু আড়াই বছর পার হলেও এসব ভবনে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
রাজউকের জরিপ অনুযায়ী, ঢাকায় সরকারিভাবে নির্মিত নতুন ভবনের ৩৭ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও অনেক ভবনে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ এখনো অবস্থান করছে। তালিকায় রয়েছে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হাজারীবাগের সালেহা উচ্চ বিদ্যালয়, আশুলিয়ার দোসাইদ এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মো. ওয়াহিদ সাদিক জানান, মধুপুর ফল্টে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকার ৪০ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে—যার সংখ্যা ৮ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি। এতে আর্থিক ক্ষতি হতে পারে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা।
‘আরবান রেজিলিয়েন্স’ প্রকল্পে ২ হাজার ৭০৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২০৭টি হাসপাতালসহ মোট ৩ হাজার ২০০টির বেশি ভবন জরিপ করা হয়। এর মধ্যে ৪২টি ভাঙার তালিকায় এবং ১৮৭টি রেট্রোফিটিংয়ের তালিকায় রাখা হয়েছে। ভাঙার তালিকায় রয়েছে পিজি হাসপাতাল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা বোর্ড ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মিত বহু ভবন।
রেট্রোফিটিংয়ের তালিকায় রয়েছে ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভবন। রাজউকের তথ্যমতে, ২০০০–২০১৮ সালের মধ্যে নির্মিত ভবনগুলোর ৮৫টি এখন ঝুঁকিপূর্ণ।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রকৌশলীদের অভিযোগ, রাজউক চিহ্নিত ভবনগুলোর বিস্তারিত প্রতিবেদন সরবরাহ করেনি। বুয়েটের পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দও পাওয়া যায়নি। এর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে এখনও শিক্ষা কার্যক্রম ও অন্যান্য কার্যক্রম চালু রয়েছে।
শহর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, রাজউক ভবন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ এবং নির্মাণে ন্যূনতম মান বজায় রাখা হয়নি। বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানি হতে পারে।
ভূমিকম্প আতঙ্কে ঢাকার বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকে শহর ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। অনেকে বলছেন, পুরোনো ও পাশাপাশি-লাগোয়া ভবনের কারণে নিরাপদ জায়গায় দাঁড়ানোরও জায়গা নেই, যা আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সিএনআই/২৫