
অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত পুলিশ সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাহিনীর ইউনিফর্ম পরিবর্তনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে নতুন ইউনিফর্ম তৈরি হয়ে বিভিন্ন ইউনিটে বিতরণ শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা মহলে এ নতুন পোশাককে ঘিরে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
অনেকে মনে করছেন, নতুন পোশাকটি প্রত্যাশা পূরণ করেনি; আবার অনেকের মতে, এটি বাহিনীর জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। তারা আশা করছেন, ইউনিফর্মের পাশাপাশি পুলিশের মানসিকতা ও আচরণেও ইতিবাচক উন্নতি ঘটবে এবং পুলিশ আরও বেশি জনগণের পাশে দাঁড়াবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দমন–পীড়নের অভিযোগ ওঠার পর পুলিশ সংস্কার ও ইউনিফর্ম পরিবর্তনের দাবি ব্যাপকভাবে জোরালো হয়। সেই প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার আয়রন কালারের (লৌহ রঙের) নতুন পোশাক অনুমোদন করে। পিবিআই, ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশসহ সব ইউনিট একই রঙের নতুন এই পোশাক পরবে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, এতদিন জেলা পুলিশ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের পোশাকের রঙ ভিন্ন ছিল। এবার প্রথমবারের মতো সব ইউনিট এক রঙে আসছে। ১৬ নভেম্বর থেকে ডিএমপিসহ সব মেট্রোপলিটন ইউনিটে নতুন ইউনিফর্ম কার্যকর হয়েছে। তবে জেলা পুলিশের কাছে নতুন পোশাক পৌঁছাতে আরও কিছু সময় লাগবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় পুলিশের মনোবল কমে যায়। পূর্ববর্তী সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। মনোবল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সরকার কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে। সামনে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান দায়িত্ব পুলিশের ওপরই পড়বে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা ও ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বাহিনীকে আরও আত্মবিশ্বাসী করতে নতুন ইউনিফর্ম চালু করা হয়েছে।
সিএনআই/২৫