২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড মালিকের বিরুদ্ধে ৬৭৮ কোটি টাকার মামলা

শেয়ার করুন

স্বর্ণ ও হীরা চোরাচালানের মাধ্যমে ৬৭৮ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এতে জানানো হয়, গতকাল সোমবার (১৭ নভেম্বর) গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করে সিআইডি। এর আগে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের আর্থিক লেনদেন, নথিপত্র এবং ব্যাংক হিসাব পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে অনুসন্ধান শুরু করে।

অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করে অবৈধভাবে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও উৎসের প্রমাণ দিতে না পারায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকার অস্বচ্ছ লেনদেনের যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। সেই ভিত্তিতে গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং মামলা (নং-৩০) রুজু করা হয়।

সিআইডি জানায়, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের মালিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বৈধ ব্যবসার আড়ালে দেশ-বিদেশে স্বর্ণ ও হীরার চোরাচালান এবং অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তদন্তে আরও উঠে আসে, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এলসির মাধ্যমে বৈধভাবে ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার বিভিন্ন স্বর্ণ ও হীরার পণ্য আমদানি করে। একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয়, বিনিময় ও পরিবর্তন পদ্ধতিতে মোট ৬৭৮ কোটি টাকার বেশি স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহ করে, যার কোনো বৈধ উৎসের নথি উপস্থাপন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

চোরাচালান থেকে অর্জিত সম্পদ রূপান্তর, হস্তান্তর ও ব্যবহারের তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে মানিলন্ডারিংয়ের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হয়। পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদন সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপির কাছে জমা দেওয়া হলে ১৬ নভেম্বর মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মামলা সিআইডির তফসিলভুক্ত হওয়ায় তদন্ত সংস্থাটিই সব নথি, ব্যাংক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করে আইনানুগ তদন্ত চালাবে।


সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন