
সরকার জারি করেছে গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, যেখানে বলা হয়েছে—রাজনৈতিক দলগুলো জোট গঠন করলেও প্রার্থীদের নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। সোমবার (৩ নভেম্বর) আইন মন্ত্রণালয় থেকে এই অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করা হয় এবং মঙ্গলবার সকালে তা গণমাধ্যমে জানানো হয়।
এর আগে গত ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটির খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিল বিএনপি। তারা নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও আইন মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে মতামত দেয় যে, জোটের প্রার্থীরা যেন বড় দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে পারেন। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই সংশোধনের পক্ষে ছিল। শেষ পর্যন্ত সরকার জোটভুক্ত প্রার্থীদের নিজ দলের প্রতীকে ভোট করার বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি করেছে।
ফলে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে কোনো নিবন্ধিত দল জোটে গেলেও তাদের প্রার্থীরা অন্য দলের প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী, যদি একাধিক দল যৌথ প্রার্থী দিতে চায়, তবে ইসিকে তফসিল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। ইসি প্রার্থীর নিজ দলের প্রতীকই জোটবদ্ধভাবে ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারবে।
এ ছাড়া সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আরও কয়েকটি সংশোধন আনা হয়েছে আরপিওতে। নতুন বিধান অনুযায়ী দ্রুত দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিও প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ সালে প্রণয়ন করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচন পরিচালনার আইনি কাঠামো হিসেবে। এরপর বিভিন্ন সময়ে এই আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালে সংসদে পাস হয় গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) আইন ২০২৩।
সরকার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে পারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ডিসেম্বরের প্রথম দিকে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে বিএনপি ২৩৭ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে, জামায়াতে ইসলামীও সব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছে। অন্য দলগুলোও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে।