
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির নামে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. ফখরুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, পূর্বে কোম্পানির হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎকারী নজরুল, খালেক ও হেমায়েত গং আবারও কোম্পানি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সোমবার রাজধানীর তোপখানা রোডের ফারইস্ট টাওয়ারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “নামে-বেনামে গ্রাহকের টাকা লুট করার পর তারা এখন আবার কোম্পানি দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ভাড়াটে সন্ত্রাসী ব্যবহার, মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে।”
তিনি জানান, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ফারইস্ট ইসলামী লাইফ অল্প সময়েই দেশের অন্যতম বৃহৎ বীমা কোম্পানিতে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নজরুল-খালেক গং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বোর্ড দখল করে নেয়। এরপর থেকেই শুরু হয় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি।
ফখরুল ইসলাম বলেন, “আমার করা মামলার পর হাইকোর্ট তাদের বোর্ড বাতিল করে এবং দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে বিএসইসি তদন্তে তাদের আত্মসাতের সত্যতা পায়। তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ১,২৫৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে, দুদকও আলাদা মামলা করেছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, নজরুল-খালেক বোর্ডের সময়ে কোম্পানির মূলধন প্রায় শূন্যে নেমে আসে এবং দায় দাঁড়ায় দুই হাজার কোটির বেশি। এর মধ্যেই তারা ৮ সেপ্টেম্বর ভাড়াটে বাহিনী দিয়ে ফারইস্টের প্রধান কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় কোম্পানির পক্ষ থেকে মামলা করা হলে তারা উল্টো মিথ্যা মামলা দায়ের করে চেয়ারম্যান ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের আসামি বানায়।
ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, “তাদের মূল উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো। তবে কোম্পানি এখন সম্পূর্ণ বৈধভাবে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) তত্ত্বাবধানে চলছে। সব আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।”
তিনি জানান, নজরুল-খালেক বোর্ড বিদায় নেওয়ার সময় ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩৫টি পলিসির বিপরীতে ১,৫০০ কোটি টাকারও বেশি দায় ছিল। বর্তমান বোর্ড দায়িত্ব নেয়ার পর ইতিমধ্যে ২৬৮ কোটি টাকারও বেশি পরিশোধ করা হয়েছে। “আমরা গ্রাহকের পবিত্র আমানত ফেরত দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ,” বলেন ফখরুল ইসলাম।
তিনি আহ্বান জানান, “ফারইস্ট ইসলামী লাইফ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি গ্রাহক, কর্মকর্তা, এজেন্ট ও শেয়ারহোল্ডারদের যৌথ আস্থার প্রতিষ্ঠান। আমরা আইনি ও নৈতিকভাবে কোম্পানির সুনাম রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”