১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার
১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নাদির শাহ ও প্রমোদ বালিকার দেশপ্রেম থেকে শিক্ষা

শেয়ার করুন

লেখক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু লিখেছেন, ভারতের বিভিন্ন সরকার বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় প্রভাব রাখতে চায়। বিশেষ করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় দেখতে আগ্রহী, কারণ এ সময় ভারত বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের কথায়, “ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেকটা স্বামী-স্ত্রীর মতো। খুনসুটি বা মতানৈক্য থাকলেও তা মিটে যায়।”

লেখক বিশ্লেষণ করেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ ভারতকে নানা দানে সন্তুষ্ট করে, যা দেশের স্বার্থের বাইরে গিয়ে ভারতকে সুবিধা দেয়। এমন ব্যবস্থায় বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের নেতাদের সীমান্তে বাধার মুখে পড়তে হয়, কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা ভারতের কাছে সহজে আশ্রয় পান।

এ প্রসঙ্গে তিনি ইতিহাস থেকে উদাহরণ দিয়েছেন। ১৭৩৯ সালে পারস্য সম্রাট নাদির শাহ যখন ভারতের দিল্লি দখল করেছিলেন, তখন দিল্লির মোগলরা প্রতিশ্রুত সম্পদ দিতে দেরি করায় নাদির শাহ লুণ্ঠন চালান। তার পরও তিনি দিল্লিতে থাকা সুন্দরী তরুণী নূর বাঈকে তার দেহ ও হৃদয় দিয়ে অকাতর সেবা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্মানিত করেন। লেখক উল্লেখ করেছেন, তরুণী নূর বাঈয়ের দেশপ্রেম ও সেবাভাব দেখানো হয় যে, দেশপ্রেম শুধু শারীরিক নয়, মন ও হৃদয়ের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়।

লেখক সঙ্গতিপূর্ণভাবে বলেছেন, যদি বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা এই নৈতিক ও আন্তরিক দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতেন, তাহলে দেশপ্রেমের নামে দম্ভ বা ক্ষমতার অপব্যবহার হতো না। সরকারের মধ্যে ক্ষমতা হারানোর ভীতি থাকলে দেশ পরিচালনা আরও সৎ ও ন্যায্য হতো।

শুভম শ্যামের হিন্দি কবিতার মাধ্যমে লেখক বলেন, সরকার যদি দেশে ভীতির রাজত্ব তৈরি করে, সত্যনিষ্ঠা বজায় রাখে, এবং দেশের সেবা করে, তবে দেশের জনগণ তাদের বিশ্বাসঘাতক মনে করবে না। এটি এক ব্যঙ্গাত্মক কিন্তু বাস্তবধর্মী বিশ্লেষণ, যা বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এবং দেশপ্রেমের নৈতিকতার দিকে আলোকপাত করে।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন