৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার
১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকের উপর হামলা ও ভাঙচুর ছাত্রদলের নোসক প্রতিনিধি : সুমাইয়া আক্তার নোয়াখালী সরকারি কলেজে ছাত্রদল নেতাদের নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষকের উপর হামলা, শারীরিক হেনস্তা, হত্যার হুমকি ও অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল-২০২৬) দুপুরে নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সহ আরো কয়েকজন সংগঠিত ভাবে এ হামলায় চালায় বলে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। কলেজ প্রশাসন ও ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানায়, আজ দুপুরে কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন তার অফিসিয়াল কিছু কাগজপত্র নিতে সস্ত্রীক কলেজে আসেন। এসময় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম সানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েল সহ কয়েকজন শিক্ষক একসাথে দুপুরের খাবার খেতে বসলে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগ সহ ছাত্রদল নেতারা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং খাবার টেবিলে এসে শিক্ষকদেরকে গালিগালাজ ও হুমকিধামকি দিতে থাকে এবং বলে যে কেউ যাতে এখানে আর এক লোকমা খাবারও গ্রহণ না করে। এসময় বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানের উপর শারীরিক ভাবে হামলা করা হয় এবং হামলাকারী উনার শার্ট ধরে টেনেহিঁচড়ে শার্টের সব বোতাম গুলো ছিঁড়ে নেয়। এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন কে তারা হুমকি দিয়ে বলেন, আপনি আমাদের এলাকায় থাকেন আমাদের পোলাপানকে বললে ১০ মিনিটের মধ্যে মেরে ড্রেনে পালায় দিবে। ঘটনার পরপরই কলেজের শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে জরুরি সভা ডাকে কলেজ শিক্ষক পরিষদ। সভায় হামলাকারী ছাত্রদল নেতাদের ছাত্রত্ব বাতিল, কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ দায়ের, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা এবং এ ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এবিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি শুনেছি। কলেজ প্রশাসন নিরাপত্তা চাইলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খুলনায় প্রথম বিভাগীয় মাশরুম মেলা শুরু, পুষ্টি ও স্বাবলম্বিতার নতুন সম্ভাবনা

রূপপুরের ৯০ শতাংশ ঋণই রাশিয়ার, পরিশোধে যতটা সময় পাবে বাংলাদেশ

গণভোটে জামায়াতের অবস্থান ‘আধা প্রেম, আধা প্রতারণা’ : আইনমন্ত্রী

দেশে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জামায়াত এমপির

অব্যাহতিপ্রাপ্ত-বহিষ্কৃতদের নিয়ে চলছে রাবি ছাত্রদলের দলীয় কার্যক্রম

শেয়ার করুন

রাবি প্রতিনিধি: দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত ৩ নেতাকে দলের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বহিষ্কারের পর দলীয় ব্যানারে কোন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকলেও শাস্তিপ্রাপ্তদের এমন সক্রিয় অংশগ্রহণে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে সংগঠনটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে।

প্রশ্ন উঠছে দলীয় অব্যাহতি-বহিষ্কারাদেশ কি শুধুই লোক দেখানো ছিল!

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রদল নেতাকর্মী জানান, রাবি ছাত্রদলে এমন স্পষ্ট চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কার হওয়া নেতা থাকা আমাদের জন্য হতাশাজনক। এভাবে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং একইসাথে নতুনদের জন্য রাজনীতির পথ সংকীর্ণ করে দিচ্ছে। আমরা প্রত্যাশা করবো কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন।

সংশ্লিষ্ট নেতারা হলেন- শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য ফারুক হোসেন এবং অব্যাহতিপ্রাপ্ত যুগ্ম-আহ্বায়ক আহসান হাবিব এবং সদস্য হাসিবুর ইসলাম হাসিব।

এর আগে, নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ সদস্যের কাছে চাঁদাবাজির ফোনালাপ ফাস হওয়ার পর শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আহসান হাবিব এবং সদস্য হাসিবুর ইসলাম হাসিবকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। পরে ২২ অক্টোবর আরেক ফোনালাপ ফাসের পর একই অভিযোগে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফারুক হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়।

জানা গেছে, রাবি ভর্তি পরীক্ষায় এ এবং বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় ছাত্রদলের বসানো টেন্টে তারা উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম পারভেজ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশেও অংশ নিতেও দেখা গেছে এই নেতাদের। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিজেদের ফেসবুক একাউন্টে ছাত্রদলের নানা প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের বিষয়টিও প্রচার করছেন তারা।

বহিষ্কৃত ফারুক হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এবিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। রাবি ছাত্রদলের আহ্বায়কের সাথে যোগাযোগ করতে বলতে বলেন তিনি।

এদিকে আহসান হাবিব বলেন, আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমার দলীয় সদস্যের পদ রয়েছে। তাই দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণে কোন বাধা নেই আমার।

আরেক নেতা হাসিবুর রহমানকে মুঠোফোন একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

রাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বহিষ্কৃতদের দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণে নিষেধ করা হয়েছে। এরপরেও তারা নানা সময়ে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। অব্যাহতি পাওয়া নেতার বিষয়ে তিনি বলেন, দলীয় প্রোগ্রামগুলোতে বক্তব্য প্রদানের মতো বিষয়গুলোর সুযোগ নেই তার। আমরা দ্রুতই এই বিষয়টি দেখবো।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বহিষ্কৃত হওয়ার পর কোন নেতা দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। এই বিষয়টি এখনও আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়নি। যদি এমন হয়ে থাকে তাহলে আমরা দ্রুতই একটি অফিসিয়াল নোট পাঠাবো এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।

শেয়ার করুন

সর্বশেষ

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকের উপর হামলা ও ভাঙচুর ছাত্রদলের নোসক প্রতিনিধি : সুমাইয়া আক্তার নোয়াখালী সরকারি কলেজে ছাত্রদল নেতাদের নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষকের উপর হামলা, শারীরিক হেনস্তা, হত্যার হুমকি ও অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল-২০২৬) দুপুরে নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সহ আরো কয়েকজন সংগঠিত ভাবে এ হামলায় চালায় বলে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। কলেজ প্রশাসন ও ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানায়, আজ দুপুরে কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন তার অফিসিয়াল কিছু কাগজপত্র নিতে সস্ত্রীক কলেজে আসেন। এসময় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম সানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েল সহ কয়েকজন শিক্ষক একসাথে দুপুরের খাবার খেতে বসলে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগ সহ ছাত্রদল নেতারা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং খাবার টেবিলে এসে শিক্ষকদেরকে গালিগালাজ ও হুমকিধামকি দিতে থাকে এবং বলে যে কেউ যাতে এখানে আর এক লোকমা খাবারও গ্রহণ না করে। এসময় বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানের উপর শারীরিক ভাবে হামলা করা হয় এবং হামলাকারী উনার শার্ট ধরে টেনেহিঁচড়ে শার্টের সব বোতাম গুলো ছিঁড়ে নেয়। এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন কে তারা হুমকি দিয়ে বলেন, আপনি আমাদের এলাকায় থাকেন আমাদের পোলাপানকে বললে ১০ মিনিটের মধ্যে মেরে ড্রেনে পালায় দিবে। ঘটনার পরপরই কলেজের শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে জরুরি সভা ডাকে কলেজ শিক্ষক পরিষদ। সভায় হামলাকারী ছাত্রদল নেতাদের ছাত্রত্ব বাতিল, কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ দায়ের, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা এবং এ ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এবিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি শুনেছি। কলেজ প্রশাসন নিরাপত্তা চাইলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।