২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকের উপর হামলা ও ভাঙচুর ছাত্রদলের নোসক প্রতিনিধি : সুমাইয়া আক্তার নোয়াখালী সরকারি কলেজে ছাত্রদল নেতাদের নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষকের উপর হামলা, শারীরিক হেনস্তা, হত্যার হুমকি ও অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল-২০২৬) দুপুরে নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সহ আরো কয়েকজন সংগঠিত ভাবে এ হামলায় চালায় বলে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। কলেজ প্রশাসন ও ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানায়, আজ দুপুরে কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন তার অফিসিয়াল কিছু কাগজপত্র নিতে সস্ত্রীক কলেজে আসেন। এসময় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম সানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েল সহ কয়েকজন শিক্ষক একসাথে দুপুরের খাবার খেতে বসলে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগ সহ ছাত্রদল নেতারা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং খাবার টেবিলে এসে শিক্ষকদেরকে গালিগালাজ ও হুমকিধামকি দিতে থাকে এবং বলে যে কেউ যাতে এখানে আর এক লোকমা খাবারও গ্রহণ না করে। এসময় বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানের উপর শারীরিক ভাবে হামলা করা হয় এবং হামলাকারী উনার শার্ট ধরে টেনেহিঁচড়ে শার্টের সব বোতাম গুলো ছিঁড়ে নেয়। এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন কে তারা হুমকি দিয়ে বলেন, আপনি আমাদের এলাকায় থাকেন আমাদের পোলাপানকে বললে ১০ মিনিটের মধ্যে মেরে ড্রেনে পালায় দিবে। ঘটনার পরপরই কলেজের শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে জরুরি সভা ডাকে কলেজ শিক্ষক পরিষদ। সভায় হামলাকারী ছাত্রদল নেতাদের ছাত্রত্ব বাতিল, কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ দায়ের, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা এবং এ ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এবিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি শুনেছি। কলেজ প্রশাসন নিরাপত্তা চাইলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খুলনায় প্রথম বিভাগীয় মাশরুম মেলা শুরু, পুষ্টি ও স্বাবলম্বিতার নতুন সম্ভাবনা

রূপপুরের ৯০ শতাংশ ঋণই রাশিয়ার, পরিশোধে যতটা সময় পাবে বাংলাদেশ

গণভোটে জামায়াতের অবস্থান ‘আধা প্রেম, আধা প্রতারণা’ : আইনমন্ত্রী

দেশে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জামায়াত এমপির

দেশে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জামায়াত এমপির

শেয়ার করুন

দেশে পবিত্র কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করতে বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মুজিবুর রহমান। পাশাপাশি মানুষের আইনের ‘কবর’ রচনার আহ্বানও জানিয়েছেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

নির্বাচনের আগে বিএনপি শরিয়তের বিরুদ্ধে কোনো আইন করবে না বলেছিল উল্লেখ করে মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা আল্লাহর আইন চাই। আপনারা (বিএনপি) আল্লাহর আইনের বিরোধিতা করবেন না বলেছেন। অতএব আসুন, বাংলাদেশে মানুষের আইনের কবর রচনা করে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করি।’

এসময় দেশে ইসলামী আইন চালুর জন্য একটি ইসলামী বোর্ড গঠনের আহ্বানও জানান জামায়াতের এই এমপি। এ জন্য তিনি মাদরাসা থেকে পাস করা সংসদ সদস্য এবং সংসদের বাইরে যত মাযহাবের আলেম আছেন, তাদের নিয়ে এ বোর্ড গঠনের পরামর্শ দেন। তার মতে, এ বোর্ড ইসলামী আইন চালুর পরামর্শ দেবে এবং দেশে সেই আইন কার্যকর হবে।

মুজিবুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, তারা শরিয়তের আইন বিশ্বাস করেন না। পরে অবশ্য আত্মসমর্পণ করে নির্বাচনের আগে বলেন, শরিয়তের বিরুদ্ধে তারা কোনো আইন পাস করবেন না। ধন্যবাদ উনাকে (ফখরুল), অন্তত তওবা করে ফিরে এসেছেন।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদের লবিতে ঢোকার সময় ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা’ এবং ‘ইমান’- এটা দেখার পর তার মনে হয় আল্লাহর প্রতি ঈমান থাকলে আইনের উৎস হবে আল কোরআন। কোরআনের বিধান বাংলাদেশে চালু হওয়া উচিত ছিল।’

দেশের শতকরা ৯০ জন মানুষ কোরআনে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে জামায়াতের এমপি বলেন, ‘পবিত্র কোরআনের ৬ হাজার ৬৬৬টি আয়াতের মধ্যে ১ হাজার আয়াত আছে ‘হ্যাঁ–বোধক’ আইন, ১ হাজার আয়াত আছে ‘না’ বোধক। এগুলো বাংলাদেশে কায়েম করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি পাঁচবার এবং জাতীয় পার্টি দুইবার সরকার গঠন করলেও দেশে কোরআনের একটি আইনও চালু করেনি। আমরা এ দেশে কোরআনের আইন চালু করে মানুষকে মুক্তি দিতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আপনাকেও জিজ্ঞাসা করা হবে, আমাকেও করা হবে, বাংলাদেশে কেন নামাজ চালু করা হলো না? কেন জাকাত চালু করে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব দূর করা হলো না? কেন ভালো কাজ চালু করে মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হলো না?’

জান্নাতের টিকিট বিক্রির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘টিকিট বিক্রির একটা কথা হয়েছে। কোরআনের একটি আয়াতকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। আল্লাহ–তাআলা সূরা তওবার ১১১ নম্বর আয়াতে বলেছেন, আল্লাহ–তাআলা জানমালকে কিনে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে। এটা আল্লাহর কথা, আপনি জানমাল দেবেন, জান্নাতে যেতে পারবেন। জানমাল আল্লাহর পথে দেবেন না, আপনার কপালে জান্নাত হবে না।’

মুজিবুর রহমান চ্যালেঞ্জ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর কোন নেতা বলেছে, আমার কাছে জান্নাতের টিকিট আছে, বিক্রি করছি? প্রধানমন্ত্রীকে জবাব দিতে হবে, কেন তিনি এটা বলছেন।’

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা একটা ভোটের শপথ নিলাম, আরেকটা ভোটের শপথ নিলাম না, তাহলে জনগণের ভোটের সঙ্গে ভালো আচরণ করা হলো না। জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হলো।’

তিনি দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ কার্যকরের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘শপথ নেওয়া না হলে যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে, তার সমাধান হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তারা অক্ষরে অক্ষরে এটা পালন করবেন। তাহলে শপথটা নিলে অসুবিধাটা কোথায়?’

 

শেয়ার করুন

সর্বশেষ

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকের উপর হামলা ও ভাঙচুর ছাত্রদলের নোসক প্রতিনিধি : সুমাইয়া আক্তার নোয়াখালী সরকারি কলেজে ছাত্রদল নেতাদের নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষকের উপর হামলা, শারীরিক হেনস্তা, হত্যার হুমকি ও অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল-২০২৬) দুপুরে নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সহ আরো কয়েকজন সংগঠিত ভাবে এ হামলায় চালায় বলে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। কলেজ প্রশাসন ও ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানায়, আজ দুপুরে কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন তার অফিসিয়াল কিছু কাগজপত্র নিতে সস্ত্রীক কলেজে আসেন। এসময় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম সানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েল সহ কয়েকজন শিক্ষক একসাথে দুপুরের খাবার খেতে বসলে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগ সহ ছাত্রদল নেতারা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং খাবার টেবিলে এসে শিক্ষকদেরকে গালিগালাজ ও হুমকিধামকি দিতে থাকে এবং বলে যে কেউ যাতে এখানে আর এক লোকমা খাবারও গ্রহণ না করে। এসময় বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানের উপর শারীরিক ভাবে হামলা করা হয় এবং হামলাকারী উনার শার্ট ধরে টেনেহিঁচড়ে শার্টের সব বোতাম গুলো ছিঁড়ে নেয়। এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন কে তারা হুমকি দিয়ে বলেন, আপনি আমাদের এলাকায় থাকেন আমাদের পোলাপানকে বললে ১০ মিনিটের মধ্যে মেরে ড্রেনে পালায় দিবে। ঘটনার পরপরই কলেজের শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে জরুরি সভা ডাকে কলেজ শিক্ষক পরিষদ। সভায় হামলাকারী ছাত্রদল নেতাদের ছাত্রত্ব বাতিল, কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ দায়ের, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা এবং এ ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এবিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি শুনেছি। কলেজ প্রশাসন নিরাপত্তা চাইলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।