২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গলাচিপায় খাল খনন না কি ড্রেন? অপরিকল্পিত পাইপলাইনে ভেস্তে যেতে পারে পুরো প্রকল্প

শেয়ার করুন

গলাচিপা প্রতিনিধি, হাসিবুর রহমান স্বাধীন:

 

পটুয়াখালীর গলাচিপায় চলমান খাল খনন কার্যক্রম নিয়ে জনমনে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন—এটি কি খালের নাব্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ, নাকি কেবল ড্রেন নির্মাণ?

অভিযোগ উঠেছে, খালের খননকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই তলদেশে ও দুই পাশে অসংখ্য পাইপলাইন বসানো হয়েছে, যা ভবিষ্যতে পানি প্রবাহে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খালের ভেতর দিয়ে এভাবে যত্রতত্র পাইপলাইন বসানোর ফলে স্রোত বাধাগ্রস্ত হবে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পলি জমে খালটি আবারও ভরাট হয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকাবাসী মনে করছেন, এই অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সরকারের মহৎ এই উদ্যোগ এবং বিশাল বাজেটের খনন কার্যক্রম শেষ পর্যন্ত একটি ব্যর্থ প্রকল্পে পরিণত হতে পারে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের বিভিন্ন পয়েন্টে আড়াআড়িভাবে অসংখ্য পাইপ বসানো হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, খালের দুই পাশে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়বে। তারা অবিলম্বে খালের ভেতরে বসানো সমস্ত পাইপলাইন অপসারণ এবং টেকসই প্রকৌশলগত পরিকল্পনা অনুসরণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, খালটি খনন করা হচ্ছে জনগণের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য। কিন্তু বর্তমান কাজের ধরন দেখে মনে হচ্ছে, এটি খালের চেয়ে ড্রেনের আকার ধারণ করছে। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে পাইপলাইনগুলো সরিয়ে যথাযথভাবে নাব্য রক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায়, খনন শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই খালটি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং খালের আদি রূপ বজায় রেখে খনন কাজ সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গলাচিপার সচেতন নাগরিক সমাজ।

শেয়ার করুন