২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেরু অঞ্চলের ‘পোলার নাইট’ কীভাবে মানিয়ে নেয় মানুষ

শেয়ার করুন

মেরু অঞ্চলের শীতকালীন প্রকৃতি পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। কয়েক সপ্তাহ থেকে মাসব্যাপী সূর্যের আলো পুরোপুরি অনুপস্থিত থাকে, যা “পোলার নাইট” নামে পরিচিত। এই দীর্ঘ অন্ধকার মেরু অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা ও মানসিক স্বাস্থ্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। তবে এখানকার মানুষের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল সবার জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।

পোলার নাইট: অন্ধকারে রঙিন আলোর মায়া

পোলার নাইট মানে শুধুই গভীর অন্ধকার নয়। সূর্যের আলো অনুপস্থিত থাকলেও বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে সূর্যের ক্ষীণ রশ্মি নীল, গোলাপি ও বেগুনি রঙের এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। চাঁদের আলো, তারার ঝিলিক এবং বরফে প্রতিফলিত আলো পরিবেশকে সান্ত্বনাদায়ক করে তোলে। এই মায়াময় দৃশ্য দীর্ঘ অন্ধকারের মধ্যেও একধরনের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।

দীর্ঘ অন্ধকারের প্রভাব

শীতকালে সূর্যের আলো কম থাকায় শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়ে। ঘুমের চক্র বাধাগ্রস্ত হয়, এবং অনেকে সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার (এসএডি) নামে পরিচিত বিষণ্নতায় ভোগেন। ইউরোপে প্রায় ২-৮ শতাংশ মানুষ এ সমস্যায় আক্রান্ত।

তবে মেরু অঞ্চলের স্যামি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঘুমজনিত সমস্যার হার তুলনামূলক কম। তাদের ইতিবাচক জীবনযাত্রা ও মানসিকতার কারণে এ সমস্যার প্রভাব অনেকটাই কমে যায়।

ইতিবাচক মনোভাবের ভূমিকা

নরওয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা শীতকালকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন—যেমন স্কি করা, আগুনের পাশে সময় কাটানো বা শীতকালীন কার্যক্রমে যুক্ত থাকা—তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

গবেষক কারি লাইবোউইটজ বলেন, শীতকালকে নেতিবাচকভাবে দেখা মানুষ অন্ধকার ঠেকাতে বড় আলো জ্বালায়, যা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বরং আলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা ও স্বাভাবিক জীবনযাপন বেশি কার্যকর।

আলোর ব্যবস্থাপনায় ঘুমের সমাধান

পোলার নাইটের সময় মেলাটোনিন উৎপাদনের তারতম্য ঘুমের চক্রে প্রভাব ফেলে। রাতে হালকা আলো ব্যবহার এবং ধীরে ধীরে আলো কমানোর মাধ্যমে মেলাটোনিন উৎপাদন সক্রিয় করা যায়। নীল আলো সমৃদ্ধ বিশেষ ল্যাম্প ব্যবহার ঘুমের মানোন্নয়নে সহায়তা করে।

সকালের ব্যায়াম ও প্রকৃতির সংস্পর্শ

ফিনল্যান্ডের ইনারি অঞ্চলের বাসিন্দা এসথার বেরেলোভিচ প্রতিদিন দুই ঘণ্টা হাঁটা বা স্কি করেন। তিনি বলেন, “মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা না হলে আমি বাইরে হাঁটতে যাই। আলো পাওয়ার সময়টা বাইরে কাটানো জরুরি।” সকালের শারীরিক ব্যায়াম ঘুমের চক্র স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।

কর্মস্থলে শৃঙ্খলার গুরুত্ব

শীতকালে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা মেনে চলা ঘুমের চক্র ঠিক রাখতে সহায়ক। সুইডেনের কিরুনায় এক গবেষণায় দেখা গেছে, শীতকালে মানুষ গড়ে ৩৯ মিনিট দেরিতে ঘুমাতে যান, ফলে তাদের ঘুমের সময় কমে যায়।

শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা

পোলার নাইটের দীর্ঘ অন্ধকারে মেরু অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা আমাদের জন্য দারুণ শিক্ষা। আলো ব্যবস্থাপনা, সকালের ব্যায়াম, এবং ইতিবাচক মনোভাব শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

 

শেয়ার করুন