
পৌষের শীতে কাহিল উত্তরাঞ্চল: গরম কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে
পৌষের হিমেল শীত
মাঘ মাস আসার আগেই উত্তরাঞ্চলে পৌষের শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত। প্রতিদিন বাড়ছে ঠান্ডা বাতাস, ঘন কুয়াশা এবং মৃদু শৈত্যপ্রবাহের প্রকোপ। রংপুরসহ পুরো উত্তরাঞ্চলে তীব্র ঠান্ডায় নাকাল জনজীবন। গত চার দিন ধরে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।
জীবনযাত্রায় স্থবিরতা
ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঠান্ডায় কাহিল হয়ে পড়ছে মানুষ ও গৃহপালিত প্রাণী। বিকেলের পর আবার কুয়াশায় আচ্ছন্ন হচ্ছে প্রকৃতি। ঠান্ডার কারণে মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে।
শীতজনিত রোগের প্রকোপ
গ্রামাঞ্চলে ঠান্ডাজনিত রোগ, যেমন নিউমোনিয়া, সর্দি, কাশি, ও জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ ও অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীর সংখ্যা বেশি। চিকিৎসা নিতে প্রতিদিন বহু মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছে।
দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা
শীত নিবারণে খড়কুটোতে আগুন জ্বালাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা বাড়ছে। রংপুর মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ১ ডিসেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচজন ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে একজন মারা গেছেন।
তাপমাত্রার ওঠানামা
গত এক সপ্তাহে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৯ জানুয়ারির পর তাপমাত্রা আরও কমে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। এই শৈত্যপ্রবাহ ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে থাকতে পারে।
শীতবস্ত্রের চাহিদা ও সংকট
উত্তরাঞ্চলে ২০ লাখ হতদরিদ্র মানুষের জন্য তিন লাখ কম্বল বরাদ্দ করা হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বেসরকারি সংস্থাগুলোর উদ্যোগেও পর্যাপ্ত সহায়তা মিলছে না। সরকারি ও বেসরকারি উভয় মহলকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
উপায়ান্তরে হতদরিদ্রদের আকুতি
গরম কাপড়ের অভাবে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ। অনেকেই কাজ ছেড়ে ঘরে বসে আছেন। তীব্র শীতের কারণে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
প্রশাসনের আহ্বান
রংপুরের জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে আরও কম্বলের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। সমাজের বিত্তবানদেরও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের শীত পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে শীতের তীব্রতায় অসহায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।