১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার
৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীদের মধ্যে বাড়ছে ‘নীরব ঘাতক’, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ

শেয়ার করুন

আধুনিক জীবনযাত্রার ইঁদুরদৌড়ে মহিলারা আজ পুরুষদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চললেও, নিজের শরীরের প্রতি অবহেলা অনেক ক্ষেত্রেই ডেকে আনছে চরম বিপদ। বিশেষ করে হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা নারীদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, অথচ এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা এখনও তলানিতে।

ফলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছেন সল্টলেকের ‘মণিপাল হসপিটালস’-এর ইন্টারন্যাশনাল কার্ডিওলজি কনসালট্যান্ট ডা. রাজা নাগ।

কেন একে ‘নীরব ঘাতক’বলা হয়?

দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল যে উচ্চ রক্তচাপ মূলত পুরুষদের রোগ, কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। চিকিৎসকদের মতে, মহিলারা প্রায়শই মাথাব্যথা, ক্লান্তি, বুক ধড়ফড় বা শ্বাসকষ্টের মতো প্রাথমিক উপসর্গগুলোকে মানসিক চাপ বা হরমোনজনিত সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। ভেতরে ভেতরে রক্তচাপ বাড়তে থাকলেও বাইরে থেকে অনেক সময়ই বোঝা যায় না, তাই হাইপারটেনশনকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’।

ঝুঁকির নেপথ্যে কোন কারণগুলো?

মহিলাদের জীবনের বিশেষ কিছু শারীরবৃত্তীয় পর্যায় উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ডা. নাগের মতে:

    • গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় জেস্টেশনাল হাইপারটেনশন বা প্রি-এক্লাম্পসিয়া দেখা দিলে ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগের সম্ভাবনা থাকে।
    • মেনোপজ: মেনোপজের পর শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমলে রক্তনালীর নমনীয়তা কমে যায়, যা রক্তচাপ বাড়াতে পারে।
    • ওষুধের প্রভাব: ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ পিল বা হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপিও কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়ায়।

এ ছাড়াও আধুনিক জীবনযাত্রার অনুষঙ্গ হিসেবে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, ধূমপান এবং শরীরচর্চার অভাব পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলছে।

সুরক্ষার পথ কী?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সুস্থ থাকতে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি। বিশেষ করে ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে সমস্ত মহিলার নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করানো উচিত। যাদের ওজন বেশি, ডায়াবেটিস আছে বা পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস রয়েছে, তাদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।

রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে: ১. সুষম খাদ্য তালিকা ও অতিরিক্ত লবণ বর্জন। ২. নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম। ৩. পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ।

শেষ কথা

ডা. রাজা নাগের স্পষ্ট বার্তা, ‘হৃদ্‌রোগ শুধু পুরুষদের সমস্যা— এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল’। সময়ের সঠিক সচেতনতা এবং নিজের শরীরের প্রতি সামান্য গুরুত্বই পারে অসংখ্য প্রাণ বাঁচাতে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

শেয়ার করুন