
কুবি প্রতিনিধি :
‘জাতীয় পরিচয় পত্রের (এনআইডি) তথ্য পাচার মামলায় অভিযুক্ত’ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলীকে গ্রেপ্তার এবং নিয়োগ বাণিজ্যের সুষ্ঠু তদন্তসহ কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোলাইমানের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা৷
আজ বুধবার দুপুর একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষের ‘নিরপেক্ষতার’ আড়ালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ‘জামায়াতীকরণের’ অভিযোগ তুলেন শিক্ষার্থীরা।
দায়িত্ব পরবর্তী সময় থেকে উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষের দুর্নীতি, অনিয়ম, নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, আড়ালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি প্রতিষ্ঠা ও গোপনে দলীয় নিয়োগ সহ বিভিন্ন বিষয়ে তদন্তের দাবি তুলেন শিক্ষার্থীরা।
আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আসিফ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষার সর্বোচ্চ জায়গাতে যখন অনিয়ম ও দুর্নীতি হয় তখন সেটার প্রভাব সরাসরি সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর পড়ে৷ এই প্রশাসন ভুলে গেছেন বিশ্ববিদ্যালয় হলো শিক্ষা উৎপাদনের কেন্দ্র। তারা বিভিন্ন জায়গায় নিয়োগের ক্ষেত্রে জামায়াতীকরণ ও স্বজনপ্রীতি করে যাচ্ছেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে আপনারা যদি স্বচ্ছতা না দেখান, যারা আমাদের গুরু তারাই যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয় তাহলে আমরা শিক্ষার্থীরা কি প্রোডাক্ট হিসাবে এখান থেকে বের হবো?’
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী এনামুল হক সাগর বলেন, ‘৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণ হওয়া সত্ত্বেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি জবাবদিহিতার পর্যায় না গিয়ে এখনো নিজ পদে বহাল আছেন। এই ভিসি নিজের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নিজের দলের লোকদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি স্বৈরাচারী হাসিনার আমল থেকে যে অপকর্ম করে আসছেন তার সকল তথ্য প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে।’
‘প্রশাসনের মধ্যে আরেকজন ট্রেজারার ড. সোলায়মান, উনার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা রয়েছে। তাকে জবাবদিহিতা করে হলেও এখন পর্যন্ত তিনি উত্তর দিতে পারেননি। আমরা জানান দিতে চাই, এই প্রশাসন যদি নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না যায় তাহলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে শীঘ্রই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিবো’, যোগ করেন তিনি।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মোতাসিম বিল্লাহ পাটোয়ারী রিফাত বলেন, ‘এই প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ ও টেন্ডার দেওয়া থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি কার্যক্রমের মধ্যে নিজেদের অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। প্রত্যেক জায়গায় দুর্নীতি ও দলীয়করণ করে যাচ্ছেন। সবকিছু এখন সকলের কাছে স্পষ্ট। এত কিছুর পরেও আপনারা কীভাবে নিজেদের স্বপদে বহাল থাকতে পারেন?’