৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার
২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তোমাদেরকেই দেশের দায়িত্ব নিতে হবে: ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ‘আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের পড়াশুনা ও খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের গড়ে উঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি চাই, তোমরা যারা গ্যালারিতে বসে আছো তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বেসেডর হবে…. তোমাদেরকেই বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ ইউ আর দি ফিউচার, তোমরাই ভবিষ্যৎ।

শনিবার (২ মে) বিকেলে সিলেট স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে এসব বলেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান হয়।

তারেক রহমান বলেন, এখন পড়তে হবে, নিজেকে রেডি করতে হবে, আর খেলতে হবে। একই সাথে যে গান শিখতে চায় সে গান শিখবে… সেই ব্যবস্থা আমরা করব, যে মিউজিশিয়ান হতে চায় সে মিউজিশিয়ান হবে সেই ব্যবস্থা ইনশাল্লাহ আমরা করব, যে খেলতে চায় সে খেলায়াড় হবে সেই ব্যবস্থা আমরা ইনশাল্লাহ করব।

সিলেটসহ ৬৪ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের প্রধান অতিথি হিসেবে সম্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজকে এই ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা তোমরাই প্রধান অতিথি।’

শিক্ষার্থীদের তুমুল করতালির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজের লিখিত বক্তব্য পাঠ না করে বলেন, ‘আজকে বক্তৃতা দিতে ইচ্ছা করছে না। তোমাদের সঙ্গে কথা বলি।’ তিনি বলেন, ‘তোমরাই হচ্ছো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের মধ্যে থেকে ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে, তোমাদের মধ্যে থেকে ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের বড় বড় ডাক্তার তৈরি হবে, তোমাদের মধ্য থেকে ইনশাল্লাহ আন্তর্জাতিক লইয়ার হবে, তোমাদের মধ্য থেকে ভবিষ্যতে ইনশাল্লাহ আন্তর্জাতিক মানের ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হবে…. তোমাদের মধ্য থেকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হবে। দেশকে তোমরা নেতৃত্ব দেবে, তোমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। তোমাদের মধ্য থেকে এমপি হবে, মন্ত্রী হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে, প্রেসিডেন্ট হবে এই বাংলাদেশে। হবে ইনশাল্লাহ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট বন্ধুরা, আমাদের সময় প্রায় শেষ। এখন বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে তোমাদের দিকে। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব। তোমাদেরকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশকে।

প্রধানমন্ত্রী সবার কাছে জানতে চান- পারবে? জবাবে পুরো গ্যালারিতে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা উচ্চ কন্ঠে বলে, ‘হ্যাঁ‘। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইয়েস, সবাই পারবে ইনশাল্লাহ।‘

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে খেলোয়াড় হতে চাও তাকে খেলোয়াড় হতে হবে, যে গায়ক হতে চাও তাকে গায়ক হতে হবে, যে মিউজিশিয়ান হতে চাও তাকে মিউজিশিয়ান হতে হবে, যে আর্কিটেক্ট হতে চাও তাকে আর্কিটেক্ট হতে হবে, যে ইঞ্জিনিয়ার হতে চাও তাকে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে, যে ডাক্তার হতে চাও তাকে ডাক্তার হতে হবে। প্রত্যেককে তোমাদের গড়ে উঠতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামীর বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে তোমাদের উপরে। তোমরা যত ভালোভাবে সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে বাংলাদেশ তত সুন্দরভাবে শত তত শক্তিশালী ভিত্তির উপরে গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস এর প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়। এর পর ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’ থিম সং প্রচার করা হয়।

পরে স্টেডিয়ামের উন্মুক্ত মাঠে বিকেএসপির শিক্ষার্থীরা ক্রিকেট, কাবাড়ি, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট আটটি ইভেন্টে অ্যাক্রোব্যাট প্রদর্শন করে। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া শৈলী দেখেন এবং করতালির মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করেন।

স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে সিলেটসহ ৬৪ জেলায় একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ট্রফি ও লগো উন্মোচন করেন। এরপর স্টেডিয়াম মাঠে গিয়ে আটটি ক্রীড়া ইভেন্টের প্রতিযোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধায়নে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ক্রীড়া পরিদফতর। আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভার অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকায় এবার ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভা খুঁজে বের করতে নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চিন্তা কীভাবে এলো সেই গল্প তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আইডিয়াটা কেমন করে এলো সেই গল্পটা আমি বলব। আজকে থেকে সাড়ে চার বছর আগের কথা, আমিনুল গিয়েছিল লন্ডনে । আমি লন্ডনে থাকতাম, আমিনুল এসছে আমার সাথে কথা বলছে। ওকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে গিয়েছি, আমার সাথে তোমাদের আন্টি (জুবাইদা রহমান) গিয়েছেন, এখানে কয়সর বসে আছে, সেও ছিলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু আমিনুল স্পোর্টসের মানুষ… আমি স্পোর্টস নিয়ে আলাপ শুরু করলাম, যে স্পোর্টস নিয়ে আমরা কী কী করব? একপর্যায়ে আমরা খাবার টেবিলে বসে ঠিক করলাম যে আমরা নতুন কুড়ি স্পোর্টস চালু করবো বাংলাদেশে।’

অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল আলম বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদির লুনা, এমএ মালেক, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন