
গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল সময়। এই সময়টি যেমন আনন্দের, তেমনি অত্যন্ত কষ্টকরও বটে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা এই অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন যে, ‘আর আমি মানুষকে তার মাতাপিতার ব্যাপারে (সদাচরণের) নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট ভোগ করে তাকে গর্ভে ধারণ করে। আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দু’বছরে; সুতরাং আমার ও তোমার পিতা-মাতার শুকরিয়া আদায় করো। প্রত্যাবর্তন তো আমার কাছেই।’ (সুরা লুকমান: ৩১)
এই কঠিন পরিস্থিতিতে একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য প্রধান কাজ হলো, আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।
নিচে ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর আলোচনার আলোকে গর্ভবতী মায়েদের জন্য কিছু করণীয় ও আমল তুলে ধরা হলো—
নির্দিষ্ট কোনো দোয়া বা আমল আছে কি?
কোরআন বা হাদিসে বিশেষভাবে কেবল গর্ভবতী মায়েদের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট দোয়া বা নামাজের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে যেহেতু এটি একটি অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি, তাই এই কষ্ট লাঘব এবং অনাগত সন্তানের কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে সাধারণ দোয়ার মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া খুবই স্বাভাবিক এবং গুরুত্বপূর্ণ।
বিপদ ও কষ্ট মুক্তির আমল
গর্ভাবস্থার শারীরিক ও মানসিক ধকল এবং প্রসবকালীন কঠিন সময় সহজ হওয়ার জন্য কিছু কার্যকরী আমল হলো—
দোয়ায়ে ইউনুস : ‘লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায জ্বলিমিন’।
ইউনুস (আ.) এই দোয়ার মাধ্যমে কঠিন বিপদ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি এর মাধ্যমে মুমিনদের কষ্ট দূর করবেন।
ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম: তিরমিজি শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী (সা.) এই বাক্যটি বেশি বেশি পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি মানুষের কষ্ট, পেরেশানি এবং কঠিন পরিস্থিতি সহজ করে দেয়।
দুরুদ ও ইস্তেগফার: দুরুদ শরিফ ও ইস্তেগফার মানুষের কঠিন পরিস্থিতিকে সহজ করে দেয় এবং আত্মিক প্রশান্তি আনে। নেক সন্তান লাভের দোয়া সন্তান পৃথিবীতে আসার আগেই তার হেদায়েত এবং সুসন্তান হওয়ার জন্য মা-বাবার আল্লাহর কাছে রোনাজারি করা উচিত।
বিশেষ করে সুরা ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াতটি বেশি বেশি পাঠ করা যেতে পারে: ‘রব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিইয়াতিনা কুররতা আ’ইউনিওঁ ওয়াজআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা’।
বর্জনীয় কিছু বিষয় ও সতর্কতা
বর্তমান সময়ে বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রভাবে অনেক গর্ভবতী নারী তাদের গর্ভাবস্থার ছবি বা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন এবং নানা ধরনের ঘটা করে আয়োজন করেন। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে অত্যন্ত গর্হিত এবং নির্লজ্জ কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এমন কর্মকাণ্ড আমাদের আত্মিকতাকে ধ্বংস করে এবং সন্তানের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই এসব লোকদেখানো আয়োজন থেকে বিরত থেকে আল্লাহর প্রতি বিনয় প্রকাশ করা জরুরি।
দোয়া কবুলের বিশেষ সময়
একজন গর্ভবতী মা দোয়া কবুলের বিশেষ সময়গুলোতে আল্লাহর কাছে নিজের এবং সন্তানের জন্য তৌফিক কামনা করতে পারেন। যেমন: জুমার দিন আসরের পরের সময়, শেষ রাত বা তাহাজ্জুদের সময়, বৃষ্টি হওয়ার সময় এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর।
পরিশেষে, একজন গর্ভবতী মায়ের প্রধান আমল হলো ধৈর্য ধারণ করা এবং সর্বদা আল্লাহর স্মরণে থাকা। আল্লাহ যেন অনাগত সন্তানকে নেককার হিসেবে কবুল করেন এবং প্রসবের সময়টিকে সহজ করে দেন, সেই প্রার্থনা করা প্রত্যেক মা-বাবার একান্ত কর্তব্য।