২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার
৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়ে কি ভাগ্যের লিখন, নাকি মানুষের চেষ্টা ও কর্মের ফল?

শেয়ার করুন

বিয়ে মানুষকে শালীনতা, পবিত্রতা ও পরিপূর্ণ জীবনের পথে পরিচালিত করে। মানবসভ্যতার শুরু থেকেই বিয়ের বিধান চলে আসছে। ইসলামে বিয়েকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। যে ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে এবং বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তার জন্য দেরি না করে বিয়ে করা ইমানি দায়িত্ব।

এ বিষয়ে নবী করিম (সা.) বলেছেন, “হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যার বিয়ের সামর্থ্য আছে, সে যেন বিয়ে করে। কেননা বিয়ে দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে; রোজা খায়েশ কমিয়ে দেয়।” (বোখারি: ৫০৬৫, মুসলিম: ১৪০০)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়, দিন বা মাস নির্ধারিত নেই। বরং সামর্থ্য হলে দ্রুত বিয়ে করাই উত্তম। তবে বিয়ের প্রসঙ্গ এলেই অনেকের মনে একটি প্রশ্ন জাগে—কার সঙ্গে কার বিয়ে হবে, তা কি আগে থেকেই নির্ধারিত, নাকি মানুষের কর্ম ও চেষ্টার ফল?

এ বিষয়ে রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম মাদ্রাসার ফতোয়া বিভাগের প্রধান মুফতি আব্দুর রহমান হোসাইনি বলেন, কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে—সবই তাকদিরে লিপিবদ্ধ রয়েছে। কার সঙ্গে কার বিয়ে হবে, কে কখন মারা যাবে, কোথায় চাকরি করবে—সবকিছুই আল্লাহর জ্ঞানে পূর্বনির্ধারিত। তবে মানুষ জানে না তাকদিরে তার জন্য কী লেখা আছে।

তিনি আরও বলেন, তাকদির পরিবর্তন করা যাবে কি না—এ নিয়ে চিন্তা করাই অর্থহীন। ইসলামের নির্দেশনা হলো, তাকদিরে সবকিছু লেখা থাকলেও বৈধ উপায়ে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া এবং একাগ্রতার সঙ্গে আল্লাহর কাছে দোয়া করা। কারণ আল্লাহর হুকুমে ও দোয়ায় তাকদিরের বাস্তবায়ন ভিন্নভাবে ঘটতে পারে।

মুফতির ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক সময় তাকদিরে এভাবেও লেখা থাকে যে চেষ্টা করলে বা দোয়া করলে কাঙ্ক্ষিত বিষয় অর্জিত হবে। কিন্তু যদি কেউ ‘সবই তাকদির’ ভেবে চেষ্টা ও দোয়া থেকে বিরত থাকে, তবে সেই অবহেলার কারণেই সে কাঙ্ক্ষিত ফল থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

তিনি বলেন, কেউ যদি একজন নেক ও উত্তম জীবনসঙ্গী কামনা করেন, তবে তাকে অবশ্যই শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে সামাজিক রীতি-নীতি মেনে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে এবং নিয়মিত দোয়া করতে হবে।

মুফতি আব্দুর রহমান হোসাইনি আরও বলেন, মহান আল্লাহ মানুষকে সম্পূর্ণ অসহায় করে সৃষ্টি করেননি। বরং তিনি মানুষকে ইচ্ছাশক্তি ও কর্মক্ষমতা দিয়েছেন। তাই চেষ্টা করা, সঠিক উপায় অবলম্বন করা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই ইসলামের শিক্ষা।

সবশেষে তিনি বলেন, কার সঙ্গে কার বিয়ে হবে—তা তাকদিরে লেখা থাকলেও ভালো জীবনসঙ্গী খোঁজার জন্য চেষ্টা করা এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করার কোনো বিকল্প নেই।
সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন