
বিশ্বব্যাপী বিনোদন জগতে ২০২৬ সালে সাইবার ঝুঁকি বাড়ার মূল কারণ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিহ্নিত করেছে গ্লোবাল সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি। সম্প্রতি প্রকাশিত সিকিউরিটি বুলেটিনে সিনেমা, গেম, স্ট্রিমিং এবং কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্কে (সিডিএন) এআইয়ের প্রভাব এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকিট বিক্রি থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণ, গেমিং ও ডিজিটাল কনটেন্ট সব ক্ষেত্রে এআই দ্রুত পরিবর্তন আনছে। তবে একই সঙ্গে এটি নতুন ধরনের সাইবার হুমকিও তৈরি করছে। গল্প, ভিজ্যুয়াল বা পারফরম্যান্সের মতো কনটেন্ট নকল বা তৈরি করতে সক্ষম হওয়ায় এআই সাইবার অপরাধীদের জন্য বড় আক্রমণের সুযোগ তৈরি করছে।
ক্যাসপারস্কির ওয়েব কনটেন্ট বিশেষজ্ঞ আন্না লারকিনা বলেন, ‘বিনোদন খাতে এআই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ঝুঁকি শনাক্তে সহায়তা করবে, তবে আক্রমণকারীরাও এআই ব্যবহার করে বাজার বিশ্লেষণ, অবকাঠামো দুর্বলতা খুঁজে এবং বিশ্বাসযোগ্য ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরি করতে পারবে। স্টুডিও ও প্ল্যাটফর্মগুলোকে এআইকে কেবল সৃজনশীল টুল নয়, মূল নিরাপত্তার অংশ হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে।’
প্রতিবেদনে উল্লেখিত এআই-নির্ভর পাঁচটি বড় হুমকি হলো—
১. টিকিটিং বাজারে এআই বট ব্যবহার করে পুনঃবিক্রয়মূল্য নিয়ন্ত্রণ,
২. ভিএফএক্স ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি,
৩. সিডিএন-কে লক্ষ্য করে বড় ধরনের সাইবার আক্রমণ,
৪. গেম ও ফ্যান কমিউনিটিতে ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরি,
৫. ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস।
ক্যাসপারস্কি বলেছে, বিনোদন প্রতিষ্ঠানগুলোকে এআই ব্যবহারের পূর্ণ মানচিত্র তৈরি, ভেন্ডরের নিরাপত্তা জোরদার, সিডিএনে অস্বাভাবিক কার্যকলাপ নজরদারি এবং জেনারেটিভ এআইয়ের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা পর্যালোচনা করতে হবে। এছাড়া এআই সংক্রান্ত নতুন আইন ও বিধিনিষেধ মেনে এআই গভর্ন্যান্স ও কমপ্লায়েন্স টিম গঠন জরুরি।
সিএনআই/২৫