২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজয় দিবসে সশস্ত্র বাহিনীর অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা

শেয়ার করুন

বিজয় দিবস উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫) মহান বিজয় দিবসে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত এই মনোজ্ঞ আয়োজনে তিনি উপস্থিত ছিলেন।

মহান বিজয় দিবসটিকে আরও মহিমান্বিত ও আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল চোখ ধাঁধানো ফ্লাই পাস্ট, প্যারাজাম্প এবং বিশেষ এ্যারোবেটিক প্রদর্শনী।

অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করে বিশ্বরেকর্ডের একটি ঐতিহাসিক প্রচেষ্টা। বিজয়ের ৫৪তম বছর পূর্তিকে সামনে রেখে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিকুর রহমান এবং সশস্ত্র বাহিনীর ৫৩ জন সদস্যসহ সর্বমোট ৫৪ জন প্যারাট্রুপার বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে ফ্রি ফল জাম্পের মাধ্যমে আকাশ থেকে অবতরণ করেন। এটি এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক পতাকাসহ ফ্রি ফল জাম্পের একটি উদ্যোগ, যা এখনও গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে লিপিবদ্ধ হয়নি। সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের এই প্রচেষ্টা সফল হলে এই রেকর্ডটি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পক্ষে নথিভুক্ত হবে, যা দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী অর্জন। ধারণা করা হচ্ছে, এই আয়োজন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সক্ষমতার পরিচয় এবং ভাবমূর্তি উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

এই অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক একটি সমন্বিত ব্যান্ড পরিবেশনেরও আয়োজন করা হয়। ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সশস্ত্র বাহিনীর অর্কেস্ট্রা দল বাদ্য পরিবেশন করে এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত সেনানিবাস বা ঘাঁটি সংলগ্ন এলাকায় সীমিত আকারে ব্যান্ড পরিবেশন করা হয়। এছাড়া, বিমান বাহিনী কর্তৃক খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, নাটোর, বগুড়া, চট্টগ্রাম শহর ও ফৌজদারহাট এলাকা, কক্সবাজার এবং মাতারবাড়ী এলাকায় সীমিত পরিসরে ফ্লাই পাস্ট পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনৈতিকবৃন্দ, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানগণসহ বিপুল সংখ্যক আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটি উদযাপনের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, পাগলা (নারায়ণগঞ্জ) এবং বরিশালসহ বিআইডব্লিউটিসি ঘাটে নৌবাহিনীর নির্ধারিত জাহাজসমূহ দুপুর ১২:০০টা থেকে বিকেল ৪:০০টা পর্যন্ত জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। একই সাথে, সামরিক জাদুঘরসহ তিন বাহিনীর অন্যান্য জাদুঘরগুলো সর্বসাধারণের জন্য বিনা টিকিটে প্রদর্শনীর জন্য খোলা রাখা হয়।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন