২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাকাতের যোগ্য ব্যক্তি ও আত্মীয়দের মধ্যে বিধান কী

শেয়ার করুন

জাকাত ইসলামি পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম ফরজ ইবাদত। কোরআনে বারবার নামাজের পাশাপাশি জাকাত আদায়ের তাগিদ রয়েছে। তবে জাকাত শুধুমাত্র প্রদান করলেই হবে না, এটি শরিয়তে নির্ধারিত খাত ও যোগ্য ব্যক্তি হতে হবে। অন্যথায় জাকাত আদায় হবে না।

জাকাতের মূল ৮টি খাত হলো:
১. ফকির: সম্পদহীন ব্যক্তি।
২. মিসকিন: সম্পদ আছে, কিন্তু নিসাব পর্যন্ত নয়।
৩. আমিল: জাকাত সংগ্রহ ও বণ্টনকারী।
৪. মুয়াল্লাফাতুল কুলুব: নতুন মুসলিম বা ইসলামের প্রতি অনুরাগ বাড়ানো প্রয়োজন।
৫. দাসমুক্তি: বন্দী মুক্ত করা।
৬. ঋণগ্রস্ত: ঋণে জর্জরিত ব্যক্তি।
৭. ফি সাবিলিল্লাহ: দ্বীনি শিক্ষা বা আল্লাহর পথে নিয়োজিত।
৮. মুসাফির: ভ্রমণরত অবস্থায় অর্থাভাবে পড়ে যাওয়া ব্যক্তি।

আত্মীয়দের মধ্যে বিধান:

  • যাদের জাকাত দেওয়া যায়: ভাই-বোন, চাচা-মামা, ফুফু-খালা, ভাতিজা-ভাগ্নে ও চাচাতো-মামাতো ভাইবোন, যদি তারা জাকাতের যোগ্য হন। এতে দ্বিগুণ সওয়াব হয়।

  • যাদের জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়: পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি, স্বামী-স্ত্রী এবং রাসুল (স.)-এর বংশধর বনু হাশেম।

  • অন্যান্য আত্মীয়: শ্বশুর-শাশুড়ি ও অন্য আত্মীয় যারা নিষিদ্ধ শ্রেণির মধ্যে নেই এবং যোগ্য, তাদের জাকাত দেওয়া জায়েজ।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:

  • জাকাত সরাসরি নির্দিষ্ট ব্যক্তির মালিকানায় দিতে হবে, গণউপকারী কাজে ব্যবহার হবে না।

  • নিয়ত মনে করলেই যথেষ্ট, মুখে উচ্চারণ জরুরি নয়।

  • জাকাত দিয়ে সামগ্রী কিনে দিলেও ইবাদত আদায় হবে।

  • ব্যক্তিগত নিসাবের সম্পদ থেকে শিল্প বা ব্যবসায়িক ঋণ বাদ দেওয়া যাবে না।

সঠিক খাত ও যোগ্য ব্যক্তিকে জাকাত দিলে ইবাদত কবুল হয় এবং আত্মীয়কে অগ্রাধিকার দিলে দ্বিগুণ সওয়াব অর্জিত হয়।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন