
ডিজিটাল যুগে ইসলামিক শিক্ষামূলক কার্টুন শিশুদের নৈতিকতা, আকিদা ও আখলাক শেখানোর কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তবে ইউটিউবে এসব কার্টুন তৈরি করে আয় করা শরিয়তসম্মত কি না—এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে। কোরআন–সুন্নাহ ও ফিকহি আলোচনার ভিত্তিতে এর বৈধতা ও শর্তাবলি আলোকপাত করা হলো।
ইসলামে হালাল উপার্জনের মূলনীতি হলো—কাজটি নিজে যেন হারাম না হয় এবং উপার্জনের উৎসও যেন নিষিদ্ধ উপায়ে সম্পৃক্ত না থাকে। অর্থাৎ জুয়া, সুদ, প্রতারণা, অশ্লীলতা বা শিরকের মতো বিষয় কোনোভাবেই জড়িত থাকা যাবে না।
অ্যানিমেশন বা কার্টুনের শরয়ি অবস্থান নিয়ে আলেমদের মধ্যে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। বাস্তব প্রাণীর হুবহু প্রতিকৃতি তৈরির নিষেধ থাকলেও কার্টুনধর্মী অপ্রাণবন্ত, কাল্পনিক চরিত্র—যেগুলো বাস্তব মানুষের যথার্থ অনুকরণ নয়—এসবকে বহু আলেম বৈধ বলেছেন। শাইখ সালিহ আল-ফাওজান, শাইখ ইবনে উসাইমিনসহ স্থায়ী ফতোয়া কমিটির মত অনুযায়ী শিশুবান্ধব কার্টুন নিষিদ্ধ ‘তাসউইর’-এর আওতায় পড়ে না।
তবে ইসলামিক কার্টুন তৈরিতে কিছু শর্ত মানা জরুরি—সহিহ বিষয়বস্তু ব্যবহার, ভুল হাদিস বা মনগড়া গল্প না থাকা, নারী চরিত্রে ফিতনার সম্ভাবনা এড়ানো, হারাম বাদ্যযন্ত্র বাদ দিয়ে নাশিদ বা হালাল সাউন্ড ব্যবহার করা এবং সম্পূর্ণ নৈতিক বার্তা বজায় রাখা।
ইউটিউব আয় কাঠামোয় প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। অ্যালকোহল, সুদভিত্তিক ব্যাংক বা অশালীন পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখানো হলে আয় সন্দেহজনক হয়ে যায়। ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে—যে বিজ্ঞাপন হালাল নয়, তার প্রচারণা করে আয় বৈধ নয়। তাই ইমামদের মতে, কনটেন্ট নির্মাতার নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এ আয় ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এ ঝুঁকি কমাতে ইউটিউবের ‘Made for Kids’ সেটিংস, রিস্ট্রিক্টেড মোড, কনটেন্ট রেটিংস ও বিজ্ঞাপন ফিল্টার প্রয়োগ করা যেতে পারে। চাইলে স্পনসরশিপ বা প্যাট্রিয়নের মতো সরাসরি হালাল ফান্ডিংও ব্যবহার করা যায়।
অতএব, ইসলামিক কার্টুন তৈরি করে ইউটিউব থেকে আয় করা নীতিগতভাবে বৈধ—যদি সব শরয়ি শর্ত মেনে চলা হয়, কনটেন্ট হালাল রাখা হয় এবং বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত ঝুঁকি যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। বহু আলেমের মতে, এভাবে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ইসলামিক কার্টুন দাওয়াতি কাজ ও হালাল রুজির আধুনিক একটি পথ হতে পারে।
সিএনআই/২৫