২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞানীরা বার্ধক্য থামানোর নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন

শেয়ার করুন

বিজ্ঞানীরা এমন একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন যা বার্ধক্য থামাতে পারে এবং কোষের শক্তি পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়ক। টেক্সাসের এক গবেষক দলের এই গবেষণায় দেখা গেছে, ন্যানোফ্লাওয়ার নামে বিশেষ ধরনের অতিক্ষুদ্র কণার ব্যবহার বৃদ্ধ কোষকে পুনরায় তরুণ করার ক্ষমতা রাখে।

গবেষকরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোষের শক্তি উৎপাদনকারী মাইটোকন্ড্রিয়ার সংখ্যা ও কার্যক্ষমতা কমে যায়। এতে হৃদরোগ, স্নায়ুজনিত সমস্যা ও অন্যান্য বার্ধক্য-সম্পর্কিত রোগ দেখা দেয়। ন্যানোফ্লাওয়ার কোষের ক্ষতিকর অক্সিজেন অণু শোষণ করে এবং নতুন মাইটোকন্ড্রিয়ার সৃষ্টি উৎসাহিত করে। কণাগুলো মলিবডেনাম ডাইসালফাইড দিয়ে তৈরি এবং স্পঞ্জজাতীয় ছিদ্রযুক্ত গঠন কোষে ভারসাম্য পুনঃস্থাপন করে।

গবেষণায় যুক্ত বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার অখিলেশ গাহারওয়ার বলেন, “আমরা কোষকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি যাতে শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত কোষে ভাগ করতে পারে। কোনো জেনেটিক পরিবর্তন বা ওষুধ ছাড়া কোষ পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে।”

স্টেম সেল স্বাভাবিকভাবেই প্রতিবেশী কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া শেয়ার করে। ন্যানোফ্লাওয়ার ব্যবহারে এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়, ফলে আশপাশের কোষের শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, স্মুথ মাংসপেশির কোষে শক্তি পুনরুদ্ধার ৩–৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেমোথেরাপি–ক্ষতিগ্রস্ত হৃদপেশির কোষে বেঁচে থাকার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই প্রযুক্তি বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা, হৃদরোগ, মাংসপেশীর ক্ষয়সহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

জেনেটিসিস্ট জন সুকার বলেন, “এটি খুবই সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি এবং অসংখ্য রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি শুধুমাত্র শুরু—ভবিষ্যতে আরও নতুন আবিষ্কার আশা করা যায়।”

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন