
প্রতিবেদক: মফিজুল হক (তানভীর)
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মতো মৌলিক সেবার সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ দেশে সাধারণ মানুষকে কঠিন সমস্যার মুখে ফেলে দিচ্ছে। অবৈধ সংযোগ, অতিরিক্ত বিল ও তদারকির অভাবে প্রতিদিন হাজারো মানুষ সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
গত কয়েক বছর ধরে Petrobangla এবং স্থানীয় গ্যাস অফিসে সিলিন্ডার ও গ্যাস সংযোগে দুর্নীতির অভিযোগ বেড়েছে। দুর্নীতির নেটওয়ার্কে কর্মকর্তা, দালাল এবং চুক্তিভিত্তিক প্রোভাইডাররা জড়িত। ফলে অনেক গ্রাহক সঠিক গ্যাস সংযোগ না পেয়ে অবৈধ বা ব্যয়বহুল সংযোগের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিদ্যুৎ সেক্টরেও অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি সাধারণ সমস্যা। Power Purchase Agreement (PPA)–র মতো চুক্তিতে স্বচ্ছতা না থাকায় প্রকৃত বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, অথচ সরকারি অর্থ বরাদ্দ হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ রিভিউ কমিটির রিপোর্ট বলছে, চুক্তিগুলো ছিল “রাজস্ব চুরির সুযোগ” হিসেবে।
পানির ক্ষেত্রে Dhaka WASA–র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, পানি বিল ও সরবরাহে অনিয়ম করছে। গ্রাহকরা পানির সঠিক পরিমাণ ও মান পাচ্ছেন না, কিন্তু অতিরিক্ত বিল করা হচ্ছে। অনেক পরিবারকে ফিল্টার বা গরম করে পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা গ্যাস এবং বিদ্যুতের খরচ বাড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দুর্নীতির মূল কারণ হলো ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, পর্যাপ্ত তদারকি না থাকা এবং স্বার্থান্বেষী চুক্তি। এছাড়া সাধারণ মানুষ অভিযোগ জানাতে পারলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না, ফলে দুর্নীতি চক্র অব্যাহত থাকে।
সরকারি দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিহত করতে হলে প্রয়োজন স্বচ্ছতা, তদারকি এবং জবাবদিহিতার ব্যবস্থা। মৌলিক সেবাগুলোকে ব্যবসা নয়, নাগরিকের অধিকার হিসেবে দেখতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিলে সাধারণ মানুষ সঠিক সেবা পাবে এবং দেশীয় রাজস্বও সুরক্ষিত হবে।