১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার
১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাদিসে লজ্জাশীলতার শিক্ষা: মানব চরিত্রের মূল ভিত্তি

শেয়ার করুন

ইসলাম লজ্জাশীলতাকে (হায়া) মানব চরিত্রের অপরিহার্য গুণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের নৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে। আবূ মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, “যদি তুমি লজ্জাই না করো, তাহলে যা ইচ্ছে তাই করো।” (সহিহ বুখারি: ৬১২০)

কোরআনে লজ্জার প্রশংসা পাওয়া যায়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, “হে বনি আদম! আমি তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকবে এবং যা সৌন্দর্যস্বরূপ। আর তাকওয়ার পোশাক; তা সর্বোত্তম।” (সুরা আরাফ: ২৬)

নবীজি (স.) নিজেও অত্যন্ত লাজুক ছিলেন। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেছেন, “পর্দার অন্তরালের কুমারীদের চেয়েও নবীজি অধিক লজ্জাশীল ছিলেন।” (সহিহ বুখারি: ৬১০২)

লজ্জা ঈমানের অঙ্গও। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, “লজ্জা হলো ঈমানের একটি শাখা।” (সহিহ মুসলিম: ৫৮) ইবনে মাজাহ উল্লেখ করেছেন, ইসলামের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হলো লজ্জাশীলতা।

লজ্জাশীলতা মানুষের কর্মকে নিয়ন্ত্রণ করে, পাপ থেকে রক্ষা করে এবং ন্যায়ের পথে চালিত করে। রাসুল (স.) বলেছেন, “লজ্জাশীলতা শুধু কল্যাণ নিয়ে আসে।” (সহিহ বুখারি: ৬১১৭)

নির্লজ্জতা কেয়ামতের নিদর্শন। নবীজি (স.) সতর্ক করেছেন, “শেষ যুগে জনসম্মুখে অনৈতিক কাজ সংঘটিত হবে; তখন যে ব্যক্তি বলবে—‘দেয়ালের পেছনে সরে যাও’, সে হবে সেই যুগের সবচেয়ে ভদ্র মানুষ।” (মুসনাদে আবি ইয়ালা: ৬১৮৩)

লজ্জাশীলতা কখনো কল্যাণপূর্ণ প্রয়োজন পূরণে বাধা দেয় না। সাহাবায়ে কেরামও নির্দ্বিধায় পবিত্রতা সংক্রান্ত প্রশ্ন করতেন এবং নবীজি স্পষ্টভাবে উত্তর দিতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪১৮০)

মোটকথা, লজ্জাশীলতা নৈতিক সৌন্দর্য, ঈমানের অংশ, সমাজের মেরুদণ্ড এবং মানব চরিত্রের ভিত্তি। রাসুল (স.)-এর বাণী স্মরণ করায়, লজ্জাহীনতা মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল স্তরে লজ্জাশীলতার সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত করা সময়ের অপরিহার্য।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন