বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের প্রবণতা বাড়ায় অতীতের বিধ্বংসী ভূমিকম্প নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) বলছে, ১৯০০ সাল থেকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষিত রেকর্ড অনুযায়ী শক্তিমত্তায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ১০ ভূমিকম্প হলো—
১. চিলি, বিওবিও — মাত্রা ৯.৫ (১৯৬০)
ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। প্রায় ১০ মিনিট স্থায়ী এই কম্পনে ১,৬৫৫ জন মারা যায় ও বাস্তুচ্যুত হয় ২০ লাখ মানুষ।
২. যুক্তরাষ্ট্র, আলাস্কা — মাত্রা ৯.২ (১৯৬৪)
দ্বিতীয় বৃহত্তম ভূমিকম্প। কম্পন ও সুনামিতে ১৩০ জন নিহত এবং ২৩০ কোটি ডলারের ক্ষতি।
৩. ইন্দোনেশিয়া, সুমাত্রা — মাত্রা ৯.১ (২০০৪)
১০ মিনিটের বেশি স্থায়ী ভূমিকম্পটি ‘বক্সিং ডে সুনামি’ সৃষ্টি করে। ১৪ দেশে ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু, বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ।
৪. জাপান, হোক্কাইডো — মাত্রা ৯.১ (২০১১)
সুনামিতে ১৮ হাজারের বেশি প্রাণহানি এবং বিশাল জনগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুতি।
৫. রাশিয়া, কামচাটকা — মাত্রা ৯ (১৯৫২)
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধ্বংসযজ্ঞ। ২৩ ফুট উঁচু সুনামি ঢেউ উঠেছিল।
৬. চিলি (কিউরিহিউ, ২০১০) ও রাশিয়া (কামচাটকা, ২০২৫) — মাত্রা ৮.৮
যৌথভাবে ষষ্ঠ স্থানে। চিলির ঘটনায় ৫২৩ জন নিহত। রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ তথ্য এখনো জানা যায়নি।
৭. ইকুয়েডর, এসরোলডাস — মাত্রা ৮.৮ (১৯০৬)
ভূমিকম্পে দেড় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু।
৮. যুক্তরাষ্ট্র, আলাস্কা — মাত্রা ৮.৭ (১৯৬৫)
র্যাট দ্বীপে ভূমিকম্প; দ্বীপটিতে ক্ষতি না হলেও সুনামিতে আলাস্কা ও হাওয়াইতে বড় ক্ষতি হয়।
৯. ভারত, অরুণাচল — মাত্রা ৮.৬ (১৯৫০)
‘আসাম–তিব্বত ভূমিকম্প’ নামে পরিচিত। প্রাণহানি ছিল প্রায় ৪,৮০০ জন।
১০. ইন্দোনেশিয়া, সুমাত্রা — মাত্রা ৮.৬ (২০১২)
‘ভারত মহাসাগরীয় ভূমিকম্প’ নামে পরিচিত।
প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে মারাত্মক ভূমিকম্পগুলো
ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটানো ভূমিকম্পগুলো হলো—
-
১৫৫৬, চীন (শানসি) — মৃত্যু ৮ লাখ ৩০ হাজার
-
১৯৭৬, চীন (তাংশান) — মৃত্যু ২ লাখ ৫৫ হাজার
-
১১৩৮, সিরিয়া (আলেপ্পো) — মৃত্যু ২ লাখ ৩০ হাজার
-
১৯২০, চীন (হাইয়ুহান) — মৃত্যু ২ লাখ
-
৮৫৬, ইরান (দামঘান) — মৃত্যু ২ লাখ
-
১৯২৭, চীন (তাইওয়ান) — মৃত্যু ২ লাখ
-
৮৯৩, আর্মেনিয়া (বার্শ) — মৃত্যু ১.৫ লাখ
-
১৯২৩, জাপান (কান্তো) — মৃত্যু ১.৪৩ লাখ
-
১৯৪৮, তুর্কমেনিস্তান (আশগাবাদ) — মৃত্যু ১ লাখের বেশি
-
১৯০৮, ইতালি (মেসিনা) — মৃত্যু প্রায় ১ লাখ
সিএনআই/২৫