
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি এখন পুরোপুরি নির্বাচনমুখী কর্মকৌশলে মনোযোগ দিয়েছে। ইতোমধ্যে দলটি ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে। এবার চূড়ান্ত করা হচ্ছে নির্বাচনী ইশতেহার। বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা, জুলাই সনদ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার সমন্বয়েই গঠিত হবে এবারের ইশতেহার। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকেও ইশতেহারের মূল দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে।
গত সোমবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ইশতেহার ও প্রচার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।
দলের নীতিনির্ধারকদের মতে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, শাসনব্যবস্থার সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা শক্তিশালী করাই হবে ইশতেহারের মূল অঙ্গীকার। জনগণের মালিকানা পুনঃস্থাপন এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও থাকবে।
বিএনপির ৩১ দফার আলোকে অবাধ নির্বাচন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে ভোট, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, বাকস্বাধীনতা, স্বচ্ছ প্রশাসন ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বিষয়গুলো ইশতেহারে গুরুত্বসহকারে যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি জুলাই সনদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও দুদকসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও থাকবে।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রচার কৌশল নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়। এবার শ্রেণিভিত্তিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রচারে নামবে বিএনপি—যাদের মধ্যে আলেম-ওলামা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, যুব সমাজ, কৃষক, নারী ও প্রবীণ নাগরিকরা আছেন।
ইশতেহারে কওমি মাদ্রাসার উন্নয়ন, ইসলামিক গবেষণা তহবিল, ধর্মীয় শিক্ষার আধুনিকায়ন ও ধর্মচর্চার বাধাহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি রক্ষায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, নিরাপত্তা সেল, উৎসবে রাষ্ট্রীয় সহায়তা এবং সাম্প্রদায়িক হামলা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও যোগ হবে।
যুব সমাজের জন্য বড় আকারে কর্মসংস্থানের ঘোষণা আসছে—এক কোটি নতুন চাকরি, স্টার্টআপ ফান্ড, আইটি প্রশিক্ষণ, বিদেশে শ্রমবাজার এবং মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স গঠনের প্রতিশ্রুতি যুক্ত হবে। কৃষির ক্ষেত্রে উপকরণের দাম কমানো, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, কৃষিঋণ সহজীকরণ ও ধান-চাল ক্রয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার পরিকল্পনা যুক্ত হচ্ছে।
নারীর নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ, উদ্যোক্তা তহবিল, মাতৃত্বকালীন ভাতা বৃদ্ধি ও সহিংসতা প্রতিরোধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল—এসব বিষয়ও থাকবে ইশতেহারে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের অঙ্গীকারও যুক্ত হচ্ছে।
তারেক রহমান নিয়মিত ভিডিও বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো তুলে ধরছেন। দলীয় সূত্র বলছে, এসব দিক ইশতেহারের চূড়ান্ত ভাষায় প্রতিফলিত হবে।
নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর একটি বড় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইশতেহার প্রকাশ করবে বিএনপি।
সিএনআই/২৫