
রাজনীতির ইতিহাসে দেশ ও দলের জন্য বাংলাদেশে যে কজন নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব অব্যাহতভাবে কাজ করে গেছেন, তাদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনন্য। বিগত দিনগুলোতে দেশকে গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য যে মেধা-মনন-পরিশ্রম দিয়েছেন, তা এককথায় অবর্ণনীয়। সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষার ভেতর দিয়ে এই দীর্ঘযাত্রায় জনগণকে সঙ্গে নিয়েই পথ চলেছেন। আর এজন্যই শুধু বিএনপির একটি নামমাত্র নয়, বরং গণতন্ত্রকামী সাধারণ মানুষের কাছে উজ্জ্বল এক আলোকবর্তিকা। জন-আস্থার একমাত্র দল বিএনপির মহান এক কান্ডারির নামও তারেক রহমান। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, বরং সমগ্র প্রজন্মের জন্য অনন্য এক আদর্শ; পথপ্রদর্শক এবং আশার বাতিঘর। তার ব্যক্তিত্ব ও কর্মের মধ্য দিয়ে আমরা একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক, সৃজনশীল ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।
ব্যক্তিত্বের গুণাবলি বিশ্লেষণ করলেই উন্নত মানুষের সামগ্রিক দিক ফুটে ওঠে। চরিত্র, বিশ্বাস, প্র্যাকটিস, দেশপ্রেম এবং নেতৃত্বের গুণাবলির ওপর আলোকপাত করে তার অবদান কিছুটা হলেও তুলে ধরার চেষ্টায় এ নিবেদন।
তারেক রহমান রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সততা ও আন্তরিকতাকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন। মহান ব্যক্তিত্বের গুণাবলি নিয়ে জন্মগ্রহণ করা ব্যক্তিরা ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন সৎগুণের প্রকাশ ঘটিয়ে। জনবান্ধব মানসিকতার নেতৃত্ব কখনো জনগণের সঙ্গে কোনোরূপ কূটচাল বা প্রতারণার আশ্রয় নেন না। তারেক রহমানের বক্তব্য, কর্ম ও জীবনযাপনে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে এমন আত্মিক শুদ্ধতা। সততা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষভাবে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি গভীর শ্রদ্ধার পাত্র। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিটি কর্মীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলেছেন। এমনটি সাধারণত বিরল। মাঠের দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নেতৃত্বের এ সহজ যোগাযোগ আগে কখনো কল্পনাও করা যায়নি। অথচ তারেক রহমান তা করে দেখিয়েছেন। সৎ নেতৃত্ব এবং আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর এ চৌকস ক্ষমতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে সম্ভবত একমাত্র প্রমাণ তিনিই। কর্মীদের কাছে তাই তিনি শুধু জনপ্রিয়ই নয়, মহান এ নেতার জন্য জীবন দিতেও কেউ কার্পণ্য করবে না।
বাংলাদেশের জনমানসে তারেক রহমান একজন দূরদর্শী চিন্তাবিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। জনবান্ধব রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে তিনি নতুন নতুন ধারণা ও কৌশলের প্রবর্তন করেছেন। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলা, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনসহ দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। রাজনীতির সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার উদ্ভাবনী শক্তি বিশেষভাবে কার্যকরী হয়েছে। তার চিন্তাধারা সর্বদাই সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাসঙ্গিক, কার্যকরী এবং অবশ্যই উন্নয়ন ধারাবাহিকতায় সুদূরপ্রসারী। সৃজনশীল জাতি গঠনের লক্ষ্যে তারেক রহমান সার্বক্ষণিক চিন্তামগ্ন থাকেন। বিশ্বের সৃজনশীল ও মেধাবী মানুষের জীবনচরিত পাঠ করেন এবং কিশোর-তরুণদের সৃজনশীল হয়ে উঠতে অনুপ্রেরণামূলক কর্ম উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সামগ্রিক এসব কর্মযজ্ঞ অদূর ভবিষ্যতেই বাংলাদেশকে অন্য এক উচ্চতায় যে নিয়ে যাবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। মেধা, সৃজনশীলতা, সততা, একাগ্রতা এবং পরিশ্রম আমাদের তরুণ সমাজকে আলাদা এক শক্তি জুগিয়েছে। তারেক রহমানের হাত ধরে এসব মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলবে সমৃদ্ধ নতুন এক বাংলাদেশ।
তারেক রহমানের জীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তার অটল অঙ্গীকার। তিনি যে কাজই হাতে নিয়েছেন, তা পূর্ণনিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। দলের প্রতি, নীতির প্রতি এবং দেশের জনগণের প্রতি তার যে অঙ্গীকার, তিনি তা কখনো বিসর্জন দেননি। এমনকি বিপদ ও সংকটের মুহূর্তেও তিনি তার আদর্শ ও লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি। এসবের প্রমাণ—বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের পাশে থাকা। সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেওয়া, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া ইত্যাদি সবকিছুই তিনি গভীর মনোযোগের সঙ্গে সম্পাদন করেছেন। সাধারণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে তাইতো তিনি অসাধারণ একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন। দলের প্রতিটি নেতাকর্মীদের কাছে তিনি তাই নয়নের মণি। এ ধারাবাহিকতায় দেশের সাধারণ জনগণেরও একপ্রকার হৃদয়তান্ত্রিক মনোভাব কাজ করছে।
তারেক রহমান শুধু একটি নাম নন, একটি আদর্শ। জাতীয়তাবাদী দলের কান্ডারি হিসেবেই শুধু নন, একজন সৎ, দূরদর্শী, দেশপ্রেমিক, সৃজনশীল ও মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও জাতির হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার জীবন ও দর্শন যে কোনো রাজনৈতিক কর্মী ও নেতার জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তার চিন্তাধারা ও অবদান আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করে।
তিনি শুধু দলের নয়, কোটি মানুষের প্রত্যাশার নাম। আগামী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণে তার ভূমিকা অনিবার্য হয়ে উঠেছে। আর এ পথেই লেখা হবে বিএনপির নতুন ইতিহাস, যেখানে তারেক রহমান এক অগ্রজ প্রজন্মের নেতৃত্বের প্রতীক।
লেখক: অধ্যাপক, গবেষক ও ট্রেজারার, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডিরেক্টর (ফিন্যান্স) জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)