১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার
১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকারি হাসপাতালে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে সিজার প্রসব

শেয়ার করুন
Happy Mothers day celebration beautiful card background

 

 

রাজশাহী বিভাগের সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান প্রসব উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে—এ অঞ্চলে এখন প্রতি ১০টি জন্মের মধ্যে প্রায় ৪টিই হচ্ছে সিজারের মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ন্যাচার-এ প্রকাশিত এই গবেষণা বলছে, সিজারের হার ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত ১০–১৫ শতাংশের প্রায় তিনগুণ।

রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৩৯৩ জন প্রসূতির ওপর জরিপ চালিয়ে এ ফলাফল পাওয়া যায়। নওগাঁয় সিজারের হার সর্বোচ্চ—৪৫ শতাংশ। গবেষকদের মতে, কিছু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যাও এখন সিজারের নিচে নেমে গেছে।

গবেষক দলের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক আবেদা খাতুন বলেন, সরকারি হাসপাতালেও অযৌক্তিক সিজারের প্রবণতা বাড়ছে—যা শারীরিক জটিলতা, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং আর্থিক চাপ বাড়ায়। তার মতে, তদারকি দুর্বলতা, জনবল সংকট, স্বল্প ঝুঁকিকে বড় করে দেখা এবং দ্রুত রোগী ছাড়ানোর প্রবণতা এ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

৩১ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের সিজারের হার বেশি হলেও, রাজশাহীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে—নিম্ন আয়ের ও কম শিক্ষিত নারীরাও বেশি সিজারের শিকার হচ্ছেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রসূতির অংশগ্রহণ কম, অনেকেই চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে নিতে বাধ্য হন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অপ্রয়োজনীয় সিজার বাড়তে থাকলে মাতৃস্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে—যেমন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, সংক্রমণ, ভবিষ্যৎ গর্ভধারণে জটিলতা, নবজাতকের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যা। এতে এসডিজি অনুযায়ী মাতৃমৃত্যু হ্রাসের লক্ষ্য পূরণ কঠিন হয়ে পড়বে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, সরকারি হাসপাতালে সিজার সিদ্ধান্তে কঠোর নজরদারি, ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন অনুসরণ, নার্সদের প্রশিক্ষণ, স্বাভাবিক প্রসববান্ধব পরিবেশ এবং প্রসূতির মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

সহযোগী অধ্যাপক আবেদা খাতুন বলেন, যথাযথ নীতি ও তদারকি থাকলে অপ্রয়োজনীয় সিজারের হার কমানো সম্ভব।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন