২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংশোধনেই ক্ষতি রোধের উপায়—তালাক নয়: শায়খ আহমাদুল্লাহ

শেয়ার করুন

প্রখ্যাত ইসলামিক আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, তালাক প্রশংসার যোগ্য নয়; এটি এক ধরনের শেষ উপায়, যে বিষাক্ত সম্পর্ক থেকে আর উপায় না থাকলে তবেই গ্রহণ করা উচিত। তিনি দাম্পত্য জীবনে ধৈর্য, সহনশীলতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে আগ্রাধিক্য দিয়ে বলেন—“ভাঙার আগে একবার নয়, শতবার ভাবা উচিত; সংশোধনেই সমাধান, বিচ্ছেদে নয়।”

বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাতে তাঁর ফেসবুক পোস্টে তিনি পরিবারকে মানবসভ্যতার সূতিকাগার হিসেবে উদাহরণ টেনে বলেন, মানুষ কখনোই হালকাভাবে পরিবার ভাঙা দেখতে চায় না। তবু অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে তুচ্ছ বিষয়েও প্রতিদিন বহু পরিবার তলিয়ে যাচ্ছে। তিনি একটি জরিপ উদ্ধৃত করে বলেন, রাজধানীতে গড়ে প্রতি প্রায় ৪০ মিনিটে একটি দাম্পত্য বিচ্ছেদ ঘটছে — প্রতিদিন প্রায় ৩৭টি তালাক।

শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, ইসলাম তালাককে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেনি, কিন্তু সেটিকে একটি চূড়ান্ত ও অনুকূলতাহীন সিদ্ধান্ত হিসেবে পরিবেশন করতে চাননি। ইসলাম এমন নিয়ম দিয়েছে যাতে ভুল বোঝাবুঝি মিটলে পুনর্মিলনের পথ সবসময় খোলা থাকে। কিন্তু আজ অনেকেই ক্ষণিকের রাগে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা পুনর্মিলনের সুযোগ কেটে দিচ্ছে।

তাঁর সমালোচনামূলক বক্তব্যের মধ্যে রয়েছে—তালাকের সবচেয়ে বড় ক্ষতিপ্রাপ্তরা সন্তানরা। বাবা-মার বিচ্ছেদ শিশুর মানসিক জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে এবং জীবনের নানা পর্যায়ে তার প্রতিফলন দেখা যায়। তিনি যুবসমাজকে পরামর্শ দিয়েছেন, অনুভূতিকে একতরে গ্রহণ না করে অভিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান আলেম, পরিবারের বড় ও পরামর্শদাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিন।

শায়খ আহমাদুল্লাহ নবীজীর (ﷺ) সংসারের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে মনোমালিন্য ছিলই — কিন্তু তা স্থায়ী হয়নি; বরং মমতা, ক্ষমাশীলতা ও পুনর্মিলনের মধ্য দিয়ে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। তিনি সতর্ক করেন, “তরুণদের হয়তো একাকিত্বে ছায়া আর শান্তি লাগে, কিন্তু বার্ধক্য এসে যখন অসুস্থতায় পাশে কেউ না থাকে, তখন একাকীত্বের ফল ভোগ্য হয়।”

সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “সংসার মাটির হাঁড়ির মতো—গড়তে সময় লাগে, ভাঙতে এক মুহূর্ত।” ভুল ও মতভেদের জন্য বিচ্ছেদকে ত্বরান্বিত করার বদলে, সহনশীলতা ও সংশোধনের মাধ্যমে সম্পর্ক রক্ষা করাই উচিত পথ। শায়খ আহমাদুল্লাহ সবাইকে আবেদন করেছেন—বিচ্ছেদের আগে ভেবে দেখুন; সংশোধনেই সমাধান, তালাক নয়।

শেয়ার করুন