
দোয়ার আগে দরুদ পড়া যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য বেশি বেশি দরুদ পড়তে উৎসাহ দিয়েছেন। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রসুলুল্লাহ (স.) বলেন, যে ব্যক্তি আমার জন্য একবার দরুদ পড়বে, আল্লাহ তায়ালা তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন। (সহিহ মুসলিম)
দোয়ার আগে দরুদ পড়া যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, আল্লাহর রসুলের জন্য দরুদ পাঠকারী কেয়ামতের দিন তার কাছে থাকবে। রসুল (স.) বলেন, কেয়ামতের দিন লোকদের মধ্যে ওই ব্যক্তিই আমার অধিক নিকটতম হবে, যে ব্যক্তি আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করবে। (সুনানে তিরমিজি)
আমের ইবনে রাবিআ (রা.) বলেন, আমি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খুতবায় বলতে শুনেছি, কোনো মুসলমান যতক্ষণ আমার ওপর দরুদ পাঠ করে, ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকে। বান্দারা এটা জেনে তাদের দরুদ পাঠ কমাতে পারে বা বাড়াতে পারে! (মুসনাদে আহমদ, সুনানে ইবনে মাজা)
উপরে বর্ণিত তিন হাদিস থেকে এটা সুস্পষ্ট যে দরুদ পড়লে আল্লাহ ও তার রসুলের নিকবর্তী হওয়া যায়। এ জন্য কেউ যদি দোয়ার আগে ও পড়ে দরুদ পড়ে তাহলে তার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি বেড়ে যায়।সাহাবিরা তাদের দোয়ায় দরুদ পাঠ করতেন। ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা আপনাদের নবীর প্রতি দরুদ না পাঠান ততক্ষণ দোয়া আকাশ ও জমিনের মধ্যে ঝুলে থাকে, এর থেকে কিছুই ওপরে ওঠে না। (সুনানে তিরমিজি)
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আপনারা যখন দোয়া করবেন, তখন প্রথমে আল্লাহর উপযুক্ত প্রশংসা ও গুণগান করুন, তারপর নবীজির (সা.) প্রতি দরুদ পাঠ করুন, তারপর যা প্রার্থনা করতে চান তা প্রার্থনা করুন। এ রকম দোয়া কবুল হওয়ার জন্য বেশি উপযোগী। (তাবরানি)-