১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার
১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড রেমিট্যান্সে

শেয়ার করুন

সদ্য সমাপ্ত ২০২৪ সালে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স নতুন রেকর্ড গড়ে ২৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২৬৮৯ কোটি ডলার (২৬.৮৯ বিলিয়ন) সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বছরের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার বা ২০.৫০ শতাংশ। ২০২৩ সালে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১৯২ কোটি ডলার (২১.৯২ বিলিয়ন), যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৮৯ কোটি ডলারে।

একক মাসের রেকর্ড

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রবাসীরা সর্বোচ্চ ২৬৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা একক মাসে নতুন রেকর্ড। এর আগে ২০২০ সালের জুলাই মাসে সর্বোচ্চ ২৬০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স ছিল ১৯৯ কোটি ডলার; সেই তুলনায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রবৃদ্ধি ৩২.৫৫ শতাংশ বা ৬৫ কোটি ডলার।

মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স

২০২৪ সালের মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের পরিমাণ:

জানুয়ারি: ২১১ কোটি ডলার

ফেব্রুয়ারি: ২১৬ কোটি ডলার

মার্চ: ১৯৮ কোটি ডলার

এপ্রিল: ২০৪ কোটি ডলার

মে: ২২৫ কোটি ডলার

জুন: ২৫৩ কোটি ডলার

জুলাই: ১৯১ কোটি ডলার

আগস্ট: ২২২ কোটি ডলার

সেপ্টেম্বর: ২৪০ কোটি ডলার

অক্টোবর: ২৪০ কোটি ডলার

নভেম্বর: ২২০ কোটি ডলার

ডিসেম্বর: ২৬৪ কোটি ডলার

বছরভিত্তিক রেমিট্যান্স পরিসংখ্যান

২০২৪: ২৬৮৯ কোটি ডলার

২০২৩: ২১৯২ কোটি ডলার

২০২২: ২১২৯ কোটি ডলার

২০২১: ২২০৭ কোটি ডলার

২০২০: ২১৭৪ কোটি ডলার

২০১৯: ১৮৩৩ কোটি ডলার

অর্থবছরভিত্তিক রেমিট্যান্স

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ১৩৭৭.৭ কোটি ডলার। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ২৩৯২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বার্ষিক রেমিট্যান্স।

রেমিট্যান্সের প্রভাব

প্রবাসী আয়ের প্রবাহের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ২৬১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে (২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত)। আইএমএফের বিপিএম৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২১৩৪ কোটি ডলারে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রপ্তানি আয় ও বিদেশি ঋণের বিপরীতে প্রবাসী আয়ের কোনো দায়বদ্ধতা নেই, যা অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। ২০২৪ সালে প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফন দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

 

শেয়ার করুন