১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার
১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেড় শ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও ৭০০ কোটি টাকার লেনদেন আনিসুলের

শেয়ার করুন

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ: দুদকের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় শ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পাশাপাশি প্রায় সাত শ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যও উদ্ঘাটিত হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

বুধবার (১ জানুয়ারি) বিকেলের মধ্যে মামলার দায়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে বলে জানা গেছে। দুদকের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপট

দুদক গত ৭ অক্টোবর থেকে সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী অ্যাডভোকেট তৌফিকা করিমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। অভিযোগ অনুযায়ী, আনিসুল হক তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

সম্পদের বিবরণ

১. স্থাবর সম্পদ:

কসবা, ত্রিশাল ও পূর্বাচলে ৬.৮০ একর জমি।

রাজধানীর বনানীতে একটি বাড়ি ও পূর্বাচলে একটি প্লট।

৮ বিঘা কৃষি জমি এবং ১ একর ২২ শতাংশ অকৃষি জমি।

২. অস্থাবর সম্পদ:

সিটিজেন ব্যাংক ও এক্সিম বাংলাদেশে ৪০ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সঞ্চয়: ২৩ কোটি ২৬ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৪ টাকা।

সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত: ৫ কোটি ৭৯ লাখ ২৪ হাজার ৮৯৮ টাকা।

চারটি গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল: মূল্য ৫ কোটি ৪৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

২০ ভরি সোনা এবং বিভিন্ন গৃহস্থালি আসবাবপত্র।

৩. অতিরিক্ত নগদ অর্থ:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার কাছে নগদ রয়েছে ১০ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ১৯৯ টাকা, যা ১০ বছরের ব্যবধানে ২১৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সন্দেহজনক লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহার

অভিযোগ রয়েছে, আনিসুল হক তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এই লেনদেনের মাধ্যমে সহযোগী অ্যাডভোকেট তৌফিকা করিম ও ফারহানা ফেরদৌসের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

দুদক এই অনুসন্ধানের ভিত্তিতে আনিসুল হকসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।

প্রাসঙ্গিক তথ্য

এই অভিযোগের মাধ্যমে সাবেক মন্ত্রীর সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং তা হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যতা উঠে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

শেয়ার করুন