১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার
১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাইয়ের পরও গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা, বেরোবিতে চলছে আলোচনা-সমালোচনা

শেয়ার করুন

বেরোবি প্রতিনিধি:

ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের (বেরোবি) সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্ট্রার মো. তারিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চাকরিতে যোগদান ও পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি পাওয়া এই কর্মকর্তা বর্তমানে বিএনপিমুখী পরিচয়ে সক্রিয় বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নির্বাচনের পর তিনি বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা ফোরামের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং একাধিক বৈঠকেও অংশ নেন। সেখানে তিনি আওয়ামী লীগ আমলে নিজেকে ‘বঞ্চিত’ দাবি করেন বলেও জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই তিনি চাকরিতে যোগদান করেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দপ্তরে দায়িত্ব পালনসহ পদোন্নতিও পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের আগে প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল শাখায় দায়িত্ব পালন করলেও সরকার পরিবর্তনের পর নিজেকে বিএনপির ‘নির্যাতিত কর্মী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সংস্থাপন শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব নেন। রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে তাকে ওই শাখায় পদায়ন করা হয়।

এদিকে সংস্থাপন শাখায় দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, আবেদনকারীদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই কমিটিতে তিনি নিজেই সদস্য হিসেবে যুক্ত হন এবং একই সঙ্গে ওই পদে আবেদনও করেন। তিন সদস্যের কমিটির দুই সদস্যই নিজেদের প্রার্থী হিসেবে আবেদন করে নিজেদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও সুপারিশ করেছেন বলে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

মো. তারিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে। বিভিন্ন ডকুমেন্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের পোস্টে শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা, টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারের ছবি, রংপুরের সাবেক নেতা রেজাউল করিম রাজুর নির্বাচনী প্রচারণাসংক্রান্ত পোস্ট এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগানসংবলিত বিভিন্ন স্ট্যাটাস পাওয়া গেছে। এছাড়া ২০১৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণের তথ্যও পাওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে পরিবর্তন এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী তাকে কাউন্সিল শাখা থেকে সংস্থাপন শাখায় দায়িত্ব দেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পছন্দের ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে আনার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের কয়েকজন জানান, মো. তারিকুল ইসলাম অতীতে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েশনের হয়ে একাধিকবার অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তারা বলেন, “তিনি নিয়মিত আমাদের কার্যক্রমে অংশ নিতেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চাকরি ও পদোন্নতি পেয়েছেন। তাই এখন নিজেকে বঞ্চিত দাবি করা প্রশ্নবিদ্ধ।”

প্রশাসনিক ভবনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সংস্থাপন শাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দপ্তর। নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এ শাখার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে এ ধরনের বিতর্ক প্রশাসনিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এছাড়া সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ গ্রেডের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার কমিটিতেও তাকে রাখা হয়েছে। একই পদে আবেদনকারী হয়েও যাচাই-বাছাই কমিটিতে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অন্য আবেদনকারীরা। তাদের দাবি, বিতর্কিত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ কার্যক্রমে তাকে সম্পৃক্ত রাখার বিষয়টি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

শেয়ার করুন