
২০০৬ সালে ক্ষমতা ত্যাগের পর বিএনপি-জামায়াত নেতৃবৃন্দ ও তৎকালীন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় শীর্ষ নেতাদের সাজা হয়, কেউ কেউ মৃত্যুদণ্ডেও দণ্ডিত হন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাইকোর্টে আপিলের পর অনেকেই খালাস পেয়েছেন এবং কিছু সাজা কমানো হয়েছে।
আলোচিত তিন মামলা এবং আপিলের ফলাফল:
১. জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা
অভিযোগ: ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেন।
রায়:
২০১৮ সালে খালেদা জিয়াসহ চারজনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে আদালত।
হাইকোর্টের রায়:
২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর হাইকোর্ট খালেদা জিয়াসহ সব আসামিকে খালাস দেন।
২. ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা
ঘটনা: ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত ও শতাধিক আহত।
রায়:
২০১৮ সালে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ:
২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ন্যায়বিচার নিশ্চিতে নতুন তদন্তের নির্দেশ দেন।
৩. ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা
ঘটনা: ২০০৪ সালে চট্টগ্রামের সিইউএফএল ঘাট থেকে ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক।
রায়:
২০১৪ সালে বিচারিক আদালতে ১৪ জনের মৃত্যুদণ্ড।
হাইকোর্টের রায়:
২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ছয়জনকে খালাস এবং আরও ছয়জনের সাজা কমিয়ে ১০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ:
কিছু মামলায় প্রমাণের অভাবে আসামিদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
নতুন তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
যেসব আসামি মারা গেছেন, তাদের আপিল পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।
বিএনপির দাবি, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাদের নেতাদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে সাজানো হয়েছিল। তবে হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়গুলোতে নতুন করে ন্যায়বিচারের প্রসঙ্গ সামনে এসেছে।