২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামে মানবহত্যার ভয়াবহ শাস্তি ও পরিণতির বর্ণনা

শেয়ার করুন


মানুষ পৃথিবীতে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি এবং তাঁর পক্ষ থেকে প্রেরিত মেহমান। মানুষের প্রাণ আল্লাহর অমূল্য আমানত—নিজ ইচ্ছায় এর সমাপ্তি ঘটানোর অধিকার কারো নেই। ইসলামে মানবহত্যা চরম গোনাহ, জঘন্যতম অপরাধ এবং অক্ষমাযোগ্য অবাধ্যতা হিসেবে বিবেচিত।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন—যে ব্যক্তি কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে, সে যেন পুরো মানবজাতিকেই হত্যা করল। আর যে কেউ একটি প্রাণকে রক্ষা করে, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করল (সুরা মায়িদাহ : ৩২)।

বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেন—মুসলমানের জীবন ও সম্পদ একে অন্যের জন্য হারাম; এগুলো নষ্ট করা আজকের দিন, মাস ও স্থানের মতোই নিষিদ্ধ (তিরমিজি : ২১৬২)। অন্য এক হাদিসে তিনি বলেন—মুসলিমকে গালি দেওয়া গোনাহ এবং তাকে হত্যা করা কুফরি (বোখারি : ৬০৪৪)।

নিষ্পাপ কোনো মুমিনকে হত্যা করলে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে—এ ধরনের হত্যাকারীর শাস্তি জাহান্নাম, যেখানে সে স্থায়ী হবে; আল্লাহ তার প্রতি ক্ষুব্ধ হবেন, অভিশাপ দেবেন এবং তার জন্য কঠিন শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন (সুরা নিসা : ৯৩)।

পরকালের শাস্তির পাশাপাশি দুনিয়াতেও হত্যাকারীর জন্য রয়েছে ভয়াবহ পরিণতি। হাদিসে এসেছে—কিয়ামতের দিন হত্যাকৃত ব্যক্তি তার হত্যাকারীকে সঙ্গে নিয়ে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে এবং বিচার দাবি করবে। এমনকি তাকে আরশের কাছ পর্যন্ত নিয়ে আসবে।

হত্যাকারীর তওবা গ্রহণযোগ্য কি না—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) সুরা নিসার ৯৩ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করে জানান, এ আয়াত রহিত হয়নি; তাই এমন অপরাধীর তওবা কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই (তিরমিজি : ৩০২৯)।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন