২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুমার দিন কখন গোসল করা সুন্নত—ফুকাহায়ের ব্যাখ্যা

শেয়ার করুন


মুসলমানদের কাছে সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ দিন হলো জুমা। এ দিনটিকে আল্লাহ তায়ালা বিশেষ সম্মান দিয়েছেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) এটিকে পৃথিবীর বরকতময় দিন হিসেবে ঘোষণা করেছেন। জুমার দিনের আমলগুলো পালনে রয়েছে অপার সওয়াব ও পরকালীন সফলতার নিশ্চয়তা।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন—জুমার আজান হলে দ্রুত মসজিদের দিকে ধাবিত হতে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে বিরত থাকতে (সুরা জুমআ : ৯)। জুমার নামাজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে সুন্নতভাবে গোসল করার কথা একাধিক হাদিসে বলা হয়েছে।

হাদিসে এসেছে—যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালোমতো গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করে, প্রয়োজনে তেল বা সুগন্ধি ব্যবহার করে, মানুষকে বিরক্ত না করে মসজিদে যায়, নিজের ভাগ্যের নির্ধারিত নফল নামাজ আদায় করে এবং খুতবার সময় চুপ থাকে—তার এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত সংঘটিত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয় (বোখারি : ৯১০)।
আরেক হাদিসে বলা হয়েছে—জুমার দিন মুসলমানদের জন্য এক ধরনের ঈদ। তাই যারা জুমার নামাজে উপস্থিত হবে, তারা যেন অবশ্যই গোসল করে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করে (ইবনে মাজা : ৮৩)।

অনেকেই জানতে চান—জুমার দিন কোন সময় গোসল করা সুন্নত?
ফুক্বাহায়ের মতে, এমন সময়ে গোসল করা উত্তম যখন সেই অজু ও পবিত্রতা নিয়েই জুমার নামাজ আদায় করা সম্ভব হয়। অর্থাৎ মসজিদে যাওয়ার প্রস্তুতির সময়ই জুমার গোসলের যথার্থ সময়।

তবে বিশুদ্ধ মতে, দিনের প্রথম ভাগে জুমার নিয়তে গোসল করলেও সুন্নত আদায় হয়ে যায় এবং আলাদা করে আবার গোসল করার প্রয়োজন থাকে না।

(সূত্র: বোখারি ৮৭৭, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৫০৪৪, ৫০৮০, ৫০৮৭, আলবাহরুর রায়েক ১/৬৪, রদ্দুল মুহতার ১/১৬৮)

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন