২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে গুঞ্জন ও জোরালো আলোচনা

শেয়ার করুন

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হঠাৎ শারীরিক অবনতি ঘিরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে আবারও জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। কখন তিনি ফিরবেন তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার ওপর। তিনি সুস্থতার দিকে থাকলে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর ফিরে আসতে পারেন, তবে অবস্থার অবনতি ঘটলে তপশিলের আগেই দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। এখনো তাঁর ফেরার কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক হয়নি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পরই তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি একই থাকলে শিগগিরই দেশে ফিরতে পারেন তিনি। বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও এই তথ্য জানানো হয়।

২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তারেক রহমান এবং সেখান থেকেই ভার্চুয়ালি দল পরিচালনা করছেন। ওয়ান ইলেভেন সরকার ও পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়, যার কয়েকটিতে সাজাও হয়েছিল। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সব মামলা থেকেই তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় খালাস পেয়েছেন, ফলে দেশে ফিরতে এখন কোনো আইনি বাধা নেই।

সম্প্রতি ঘোষিত দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় তিনি বগুড়া-৬ আসনের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় তাঁর দেশে ফেরার আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা গুজব ছড়িয়েছে।

তারেক রহমান ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত তাঁর একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। এই পোস্ট ঘিরে নতুন করে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারেক রহমান ফিরতে চাইলে সরকারের কোনো আপত্তি নেই, বরং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, দেশে কারও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকেও তাঁর ফেরার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে এখনো তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ট্রাভেল পাস চাওয়া হয়নি—জানিয়েছেন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে তিনি দেশে ফিরতে পারেন। সবকিছুই নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি বা অবনতির ওপর। খালেদা জিয়া ভ্রমণ করার মতো অবস্থায় এলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়া হবে এবং পরে তারেক রহমান দেশে ফিরবেন। আর অবস্থার অবনতি হলে তিনি তপশিলের আগেই ফিরতে পারেন।

আওয়ামী নেতাদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সিদ্ধান্ত। এদিকে খালেদা জিয়াকে ভিভিআইপি ঘোষণা করার পর এসএসএফ তাঁর নিরাপত্তা দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তারেক রহমানের ফেরার সময় জানা গেলে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ও সরকারি প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন